image

গডেস অব অ্যামনেশিয়া-২২

জীবনে ওই প্রথম কারও বাড়িতে রেফ্রিজারেটর দেখলাম। ঠাণ্ডা জল বের করে ও নিজে আমাদের লেবুর শরবত করে খাওয়ালো। একটা বড় রূপালি রঙের ক্যাসেট প্লেয়ার দেখলাম বুক শেল্ফের উপর রাখা। আর কোন ভাই বোন নাই ওর। এই বয়সেই একলা এক ঘরে থাকে। নিজের পছন্দের একটা গান ছেড়ে এসে আমাদের সাথে বসতে না বসতেই আবার উঠে গেল।

image

অষ্টপ্রহর আনাগোনা (৭)

ঘুম আসে না। বিছানা ছেড়ে উঠে বারান্দায় গিয়ে দাঁড়াল। মধ্যরাত। আশেপাশে ফ্ল্যাটগুলিতে নিয়ন আলো নিভে গিয়েছে। নরম কোমল অন্ধকার ঘিরে আছে চারপাশ। রাস্তার পাশে গাছগুলি নিজেদের অস্তিত্ব জানান দিচ্ছে মৃদু বাতাসে দুলে দুলে। মেঘের আড়ালে ভাঙাচোরা চাঁদ ম্লান দুঃখী মুখ নিয়ে লুকিয়ে আছে। কখনো মেঘ সরে গেলে পূর্ণতায় জেগে ওঠছে আবার হারিয়ে যাচ্ছে। রনিতা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখতে থাকে চাঁদ আর মেঘের খেলা।

image

অষ্টপ্রহর আনাগোনা (৬)

ইভান ফিরে এসেছে অফিস থেকে। চা খাবার পর রনিতা ওয়াশরুমে চলে এল হরিতকীকে পুরো ঘটনা বলতে। রনিতা জানে হরিতকী এই অবিশ্বাস্য কথা শুনে বিশ্বাস করবে। রনিতা দেখল তার কথা শুনতে শুনতে হরিতকী দুই বাহু একটু বাড়িয়ে দিল, এই প্রথম একটু নড়ল। শোবার ঘরে ঢোকার সময় ইভান শুনতে পেল রনিতা কথা বলছে ওয়াশরুমে। কার সঙ্গে কথা বলছে!

image

যদ্যপি আমার গুরু

আহমদ ছফার কাছে আবদুর রাজ্জাক যেমন, হামীম কেফায়েতের কাছে এসএম সুলতান যেমন, আমার কাছে কেফায়েত ভাই তেমনই এক মহাসাগরের নাম। কোনো এক বিকালে আমি আমার ছোটবেলার কল্পনার শিল্পীর সহিত দেখা করতে যাই গালায়, কী দুর্দান্ত লাইটিং, ক্যালিগ্রাফী, পেইন্টিং আর শিল্পে শিল্পায়িত একটা অফিস গালা।

image

গডেস অব অ্যামনেশিয়া-২১

তখন ভাদ্র মাস চলে। তালের ঘ্রাণমাখা দিন। দাদী, ফুপু আর মায়ের সিনেমা দেখা শেষ হলে, কলার পাতায় তালের পিঠা ভাজা হবে সন্ধ্যা বেলা। সেইদিন শুরু থেকেই তাই আমার সিনেমা শেষের অপেক্ষা। মন বসাতে পারছিলাম না। মিনিট বিশেক পরে উঠে এক দৌড়ে চলে গেলাম আমার প্রিয় গাছের কাছে।

image

কোব্যাশি ইশা’র জেন কবিতা : ভাষান্তর – রাজীব দত্ত

জাপানি জেন কবি কোব্যাশি ইশা। তার কিছু কবিতার অনুবাদ করেছেন কবি ও শিল্পী রাজীব দত্ত। জেন কবিতা অল্প কথায় বেশি ইঙ্গিত দিতে চায়। পনেরো নাম্বারটি এরকম: 'রাজহাঁসেরা কাঁদে; / আর আমার নামে গুজব রটে'। লেখাটি এর আগে 'লাল জীপের ডায়েরি' তে ছাপা হয়েছিল। তাই বলা যায় ইপ্রকাশে দ্বিতীয় মুদ্রন।

image

গডেস অব অ্যামনেশিয়া (২০)

আমার গল্পের এই পর্যায়ে এসে সারা নদী অন্ধকারে ছেয়ে গেল। আমি ফিরে এলাম বর্তমানে। দুই হাজার সতেরোর সুদীর্ঘ বর্ষাকাল চলছে এখন। যার মুখোমুখি বসে গল্প শুরু করেছিলাম সে কোন এক সময় মুখ নামিয়ে নিয়েছে, আমি টের পাইনি। হয়তো ক্লান্ত সে। হয়তো অজানা অচেনা মানুষে ভরা যুগ-পুরাতন এই সমস্ত গল্প শোনার আগ্রহ সে হারিয়ে ফেলেছে। বৃষ্টিও আর নাই, তাই চাইলেই উঠে চলে যাওয়া যায় যে যার ঠিকানায়। আবার কোন একদিন এমন সারাদিন বন্ধ করে বৃষ্টি হবে।

image

অষ্টপ্রহর আনাগোনা (৪)

ছোটোবেলা কুমিল্লায় রুপসদী গ্রামে নানাবাড়িতে সামার ভেকেশনে সবার সঙ্গে দেখা হত । মা কখনো সামার ভেকেশন বলতেন না, বলতেন গরমের ছুটি বা আম কাঁঠালের ছুটি। মাকে শুনে অন্যরাও সবাই গরমের ছুটি বলত। বড়ো খালা আসতেন সিলেট থেকে বাবলু আর পিংকিকে নিয়ে। খালু আসতেন না, তার ব্যবসার ক্ষতি হবে বলে। বাবলু আর পিংকির সাথে তেমন জমত না কারণ রনিতার চেয়ে তারা বেশ কয়েক বছরের বড়ো ছিল। রনিতার বাবাও যেতে পারতেন না কারণ তার অফিসেও ছুটি হত না।

image

গডেস অব অ্যামনেশিয়া (১৯)

এই্ ফিলিপস বাতির হলুদ আলো ঘিরে কোন এক কালে প্রতি সন্ধ্যায় কেমন উৎসব হতো দাদীর ঘরে! সব মনে আছে তার- তার আলোর নিচে ঘটে যাওয়া প্রতিটি হাসির শব্দ, প্রতিটি কান্নার ঘ্রাণ, প্রতিটা স্পর্শের সুর – সবকিছু! সেই ঘরে যত মানুষ আসত, যত কাগজে খবর এসে পৌঁছাত, যত কালো অক্ষর ছিল সেই সব মলিন পাতা জুড়ে- আজও স্পষ্ট মনে পড়ে। সেই ঘর আজ নেই, একটা লম্বা উঠান ভেঙে আট টুকরো হয়ে এখন যে যার মতোন আলাদা।

image

রেড সিটি

প্রসাধনের বাড়াবাড়ি ঢেকে দিয়েছে তার সব মলিনতা, সরল সৌন্দর্য্য। পাতলা মসলিনে দেহ বল্লরীর প্রতিটি বাঁক দৃশ্যমান হয়ে ফুটে আছে। লোকাট ব্লাউজে ঈষত স্ফিত বক্ষরেখা, মেদহীন কোমরে গভীর নাভী। গাড়িটা নিমেষে ধুসর ধোয়ায় নগরীর বাতাসে শীষা ছড়িয়ে দিয়ে গেট পেরিয়ে চলে গেল । কিন্তু নীল ওকে নিয়ে যেতে পেরেছে কি? এটাই তখন আমি ভাবছিলাম ওই ফ্ল্যাটের বাথরুমের ভেণ্টিলেটর ধরে বিভৎষ হয়ে ঝুলে থাকা পরিত্যক্ত কণ্ট্রাসেপটিভের দিকে তাকিয়ে, এটাই তখন ভাবছিলাম আমি।


개발 지원 대상