আমি সেরা তবলাবাদক নই : ওস্তাদ জাকির হোসেন ।। অনুবাদ : হাসনাত শোয়েব

img

ওস্তাদ জাকির হোসেন একজন বিশ্বখ্যাত কিংবদন্তি তবলাবাদক। তার জন্ম ১৯৫১ সালে, মুম্বাইয়ে। বাবা আল্লা রাখাও ছিলেন বিখ্যাত তবলাবাদক। বাবার কাছ থেকে শৈশবেই তবলা বাজানোয় অসামান্য দক্ষতা অর্জন করেন জাকির। খুব অল্প সময়ে সবার কাছে শিশু বিস্ময় হিসেবে আবির্ভূত হন। ১২ বছর বয়সেই মঞ্চে তবলা বাজানোর আমন্ত্রণ পান তিনি। এরপর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। কাজ করেছেন পণ্ডিত রবিশংকর, পণ্ডিত শিবকুমার শর্মা, ওস্তাদ আল্লা রাখা, জর্জ হ্যারিসনসহ বিশ্বখ্যাত সঙ্গীতজ্ঞদের সাথে। সংগীতে অবদানের জন্য পেয়েছেন পদ্মশ্রী, গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডসহ নানা সম্মাননা। ভারতের পত্রিকা ‘মিড ডে’ এবং ‘ইন্ডিয়ান মেলোডি’তে প্রকাশিত তার দুটি সাক্ষাতকারের চুম্বকাংশ অনুবাদ করেছেন হাসনাত শোয়েব।

সংগীত অনেক বছর ধরে আপনার পূর্বপুরুষের জীবনের অংশ...

ওস্তাদ জাকির হোসেন : কৃষি হচ্ছে আমার পূর্বপুরুষের পেশা। একমাত্র আমার বাবা যিনি সংগীতের পথ বেছে নিয়েছেন। আমার বাবার পরিবারের কেউই সংগীতের প্রতি আগ্রহী ছিলো না। আমি জানিনা এটা কীভাবে সম্ভব হয়েছে। কিন্তু একটা বিষয় নিশ্চিত, সংগীতের মেধা ঈশ্বর প্রদত্ত এবং আমার বাবাকে এজন্য নির্বাচন করা হয়েছে।

কিভাবে সংগীতের সাথে আপনার সম্পর্কের শুরু ?

ওস্তাদ জাকির হোসেন : যখন আমার বয়স এক কি দুই দিন। আমার বাবা-মা আমাকে হাসপাতাল থেকে বাসায় নিয়ে আসেন। তখন আমার বাবা আমাকে কোলে নিয়ে কানে কানে তবলার নোট শুনিয়ে দেন। এমনিতে শিশুর কানে পবিত্র বাক্য শুনিয়ে দেয়াই ছিলো নিয়ম। এটা ঠিক করাই ছিলো যে, আমি তবলা হাতে বড় হতে যাচ্ছি। আমার বাবা প্রতিদিন আমাকে কোলে বসিয়ে এক ঘন্টা বা তার বেশি সময় তবলার বোল আবৃত্তি করে শোনাত। যা আমার মধ্যে তবলা বাজানোর প্রতি গভীর আখাঙ্খা সৃষ্টি করে। দুই কি তিন বছর বয়সে এই শিল্পটির প্রতি আমার পূর্ণ ভালোবাসা তৈরি হয়ে যায়। আমি সবার অগোচরে রান্নাঘর থেকে হাঁড়ি পাতিল সরিয়ে, সেগুলো উল্টো করে রেখে আমার বাবার তবলা বাজানোর নকল করে বাজাতে শুরু করলাম।

কখন থেকে আপনার আনুষ্ঠানিক শিক্ষা শুরু হয়?

ওস্তাদ জাকির হোসেন : আমার বাবা যখন রেয়াজ করতেন সেখান থেকে আমি অনেক কিছুই শিখেছি এবং ঐ সময় আমিও বাজাতাম। এর ফলে যখন আমি সাত বছর বয়সেই আত্মবিশ্বাস নিয়ে আমি স্টেজে বাজাতে শুরু করলাম, আমার বাবা আমাকে আনুষ্ঠানিকভাবে তবলা শেখানোর কথা চিন্তা করলেন। দ্বিতীয়ত, ঐ বয়সে হাত কোমল থাকে এবং তবলা শেখার উপযুক্ত থাকে। সেইসাথে একজন শিশু শেখার ক্ষেত্রে অনেকবেশি মনযোগ দিতে পারে।

আপনার মা আপনার মিউজিক ক্যারিয়ার নিয়ে খুব বেশি খুশি ছিলেন না...

ওস্তাদ জাকির হোসেন : হ্যাঁ, শুরুতে ছিলেন না। ওই সময় সংগীতকাররা ছিলেন দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক। মানুষ জিজ্ঞেস করতো বেঁচে থাকার জন্য গানবাজনার বাইরে আর কি করো? বাবা ধনী এবং বিখ্যাত ব্যক্তিদের বাসায় বাজাতেন এবং ডাক না আসা পর্যন্ত রান্নাঘরে অপেক্ষা করতেন। তাদেরকে বিবেচনা করা হতো অশিক্ষিত হিসেবে। মানুষ বিশ্বাস করতো পৃথিবী সম্পর্কে তাদের কোনো বিস্তৃত জ্ঞান নেই। তাদেরকে বাজানোর জন্য ডাকা হয় , খাওয়ার জন্য না। আমার বাবা, পণ্ডিত রবিশংকর এবং বিলায়েৎ খাঁর মতো মানুষেরা এই ধারণা পাল্টে দেন। তারা ভালো ভালো জায়গায় ভ্রমণ করেছেন, বিদ্বান ছিলেন এবং নিজেদের উপস্থাপন করতে পারতেন। তাদের কনসার্টে উপস্থিতি থাকাটা রুচির ব্যাপারে পরিণত হয়। মিউজিক স্বর্গীয় হয়ে উঠে যখন সন্তওয়ানী এবং আবহাঙ্গস প্রবর্তন করা হয়। সম্ভ্রান্ত পরিবারগুলো নিজেদের সন্তানদের মিউজিকে আসার অনুমতি দিতে শুরু করে। বর্তমানে আমরা তার সুফল ভোগ করছি। আমি এখন তাদের সাথে এক টেবিলে বসে আহার করি, যাদের বাড়িতে একসময় রান্নাঘরে বসে বাজানোর জন্য অপেক্ষা করতাম।

আপনার বাবা আপনাকে অনেক সাহায্য করেছেন?

ওস্তাদ জাকির হোসেন : অবশ্যই। তিনি শুধু আমার বাবাই নন, আমার গুরুও। তিনি প্রায় রাত দুটা -তিনটার দিকে প্রোগ্রাম থেকে আসতেন। এখনো তিনি আমাকে জাগিয়ে দেন এবং তিনঘণ্টা বসে আমার সাথে রেয়াজ করেন এবং আমাকে শেখান। তিনি আমাকে সেসব প্রোগ্রামে সাথে করে নিয়ে যেতেন যেসবে তিনি অংশ নিতেন। তিনি সবসময় আমাকে নিয়মিত অনুশীলন করার তাগাদা দিতেন। এমনকি তবলায় বসে সারাদিন কাটিয়ে দিতেন। যা নিয়ে আমার মা মাঝেমাঝে অভিযোগও করতেন। কিন্তু তাতে কোন লাভ হতোনা।

আল্লা রাখা এবং রবিশংকরের যুগলবন্ধি অনেক জনপ্রিয়। আপনি অন্য কোন শিল্পীর সাথে জুটি গড়েন নি কেনো?

ওস্তাদ জাকির হোসেন : হ্যাঁ, তারা প্রায় ২৫-২৬ বছর ধরে একসাথে বাজিয়েছেন। এবং তারা যে জনপ্রিয়তা পেয়েছেন ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীতের ইতিহাসে সেরকম আর নেই। তারা বন্ধুত্ব এবং ভালোবাসার বন্ধনে আবদ্ধ ছিলেন। যেখানেই তারা কনসার্ট করতে যেতেন একসাথে জুটি বেঁধে বাজাতেন। তাদের জুটি পৃথিবীব্যাপী জনপ্রিয় ছিলো। এবং এখনো তারা একই প্রেম ও ভালোবাসা নিয়ে একে অপরের সাথে দেখা করেন। আর আমি এখনো শেখার পর্যায়ে আছি। যতবেশি লোকের সাথে আমি বাজাবো ততবেশি আমি শিখব। আমি সন্তুরের মায়েস্ত্রো শিবকুমার শর্মার সাথেও জুটি বেঁধে বাজিয়েছি। ওনি আমাকে খুব পছন্দ করেন এবং ওনার সাথে বাজিয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের আনন্দ পাওয়া যায়। সম্ভবত এটা তেমন অনুভূতি যা আমার বাবা ও রবিশংকরজি একসাথে বাজিয়ে লাভ করতেন। এমনকি কখনো কখনো এমনও হয়েছে লোকজন আমাকে আশা করে এসেছেন যেখানে শিবজি বাজাচ্ছেন, আবার শিবজিকে আশা করে এসেছেন যেখানে আমি বাজাচ্ছি। তখন আমাদের মনে হয়েছে যে, আমাদের অন্যদের সাথেও বাজানো উচিত। তখন গিয়ে আলি আকবর খানসাহেব, রবিশংকরজি এবং আমার বাবাসহ আরো অনেকের সাথে জুটি বেঁধে বাজানো শুরু করি।

 

আপনার বাবা একবার বলেছিলেন কেউ যদি তবলা কনসার্টে ভালো করতে চায় তাকে অবশ্যই গানও পারতে হবে।

ওস্তাদ জাকির হোসেন : আমাদের ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীত সবসময় সৃষ্টিশীলতাকে উৎসাহ দিয়ে এসেছে... তোমাকে রাগ, তাল এবং কোন রাগের সীমাবদ্ধতা কি তা জানতে হবে। জানতে হবে কোন পণ্ডিত কোন রাগে মিউজিক কম্পোজ করেছেন সেটাও। নয়তো, মিজিকের অলিগলি এবং এর অনুভূতিকে কখনোই বুঝা সম্ভব না। এইভাবে শুধুমাত্র গাওয়ার মধ্য দিয়েই তবলার সুর অনুভব করা যাবে। মিউজিকের পাশাপাশি আমি কত্থক নাচও শিখেছি। খুব কম তবলা বাজিয়ে আছেন যারা একইসাথে গায়কী ও নাচের সাথে এবং এককভাবে তবলা বাজাতে পারেন। ভারতে মাত্র ৮-১০ জন তবলা বাদক আছেন যারা এইসবগুলো একসাথে করতে পারেন। একজন আমার বাবা। বাকিরা হলেন পণ্ডিত কৃষাণ মহারাজ, পণ্ডিত সামতাপ্রাসাদ এবং আরো কয়েকজন। নতুন প্রজন্মের তবলা বাদকদের মধ্যে আমিসহ আর চার -পাঁচ জন আছেন যারা সব স্টাইলে বাজাতে পারেন।

তরুণ প্রজন্ম পশ্চিমা সংগীতের প্রতি অনেকবেশি আকৃষ্ট। আপনি তবলার ভবিষ্যৎকে কিভাবে মূল্যায়ন করবেন?

ওস্তাদ জাকির হোসেন : আমি মনে করি না, লোকে অনেকবেশি ওয়েস্টার্ন মিউজিক শুনছে বলে তবলার ভবিষ্যত অন্ধকারময়। অবশ্যই সব ধরনের সংগীত শোনা উচিত। এমনকি হিন্দি ছবির গানও ওয়েস্টার্ন মিউজিকের সাথে বিবেচনা করা যেতে পারে। এবং ব্যাপারটা এমন না যে, শাস্ত্রীয় সংগীত জনপ্রিয় না। এটি অনেক জনপ্রিয় শুধু ভারতেই নয় বরং বিশ্বজুড়ে। শাস্ত্রীয় সংগীত ভিড়ের মাঝে শোনার জন্য না। এটি স্টিরিও ফোনে উচ্চস্বরে শোনার জন্যও না। এটি এমনকিছু যা একটা দলের মধ্যে থেকে একজন শোনে। যেখানে আত্মার মিল হয় এবং সংগীতের সাথে আন্তরিকতা তৈরি হয়। আবার একইভাবে এরকম অনুভূতি যখন স্টেডিয়ামে বাজানো হয়, তখনও পাওয়া যায়না।

পরবর্তী প্রজন্মের তবলাবাদকদের নিয়ে আপনি কতটা আশাবাদী?

ওস্তাদ জাকির হোসেন: আমি সেরা তবলাবাদক নই। এটা চরম সত্য। তুমি আমার বাজানো পছন্দ করতে পারো কিন্তু আমি স্রেফ অনেক ভালোর মধ্যে একজন। এখানে কলকাতারর সাবির খান আছেন, যারা সাতপুরুষ ধরে তবলাবাদক। অতীতে গুরুরা সকল গোপনীয়তা কেবল নিজেদের ঘরানায় সীমাবদ্ধ রাখতেন এবং ঈর্ষাপরায়ণ হয়ে কেবল নিজেদের অনুসারীদেরকেই শিক্ষা দিতেন। কিন্তু আজ অনলাইনে শেখার জন্য সব পাওয়া যায়। সত্যজিৎ তালওয়াকার, আদিত্য কল্যাণপুর, ওজাস আধিয়া, অনুরাধা পল, বিক্রম ঘোষসহ আরো অনেক নাম আছে যারা উল্লেখযোগ্য। মেয়েরাও সমানে এগিয়ে আসছে। বাঁধার দেয়ালে ফাটল ধরেছে। সংগীত এখন লাভজনক পেশা। যেখানে অনেক মেধাবী তরুণ রয়েছে।

ফিউশন এবং যুগলবন্দীর এই ধারণা কি আপনার বাবার কাছ থেকে পাওয়া?

ওস্তাদ জাকির হোসেন : তিনি প্রথমদিককার একজন শাস্ত্রীয় সংগীতজ্ঞ যিনি বলিউডে মিউজিক দিয়েছেন। তিনি বিশ্বের সেসব শিল্পীদেরও মধ্যে অন্তর্ভুক্ত যারা অর্কেস্ট্রার অংশ হয়েছেন। তিনি তাদের সাথে গান বেঁধেছেন এবং তাদের সংস্কৃতি বুঝেন। ফিউশন মিউজিক শুরু হয় বলিউডে -হিন্দি ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে। 'শোলা জো ভড়কে' জ্যাজ আবার 'ইনা মিনা ডিকা' সুইং মিউজিক। আমার বাবা ছিলেন তাদের একজন যারা এই বিপ্লবটা শুরু করেছিলেন।

শাস্ত্রীয় সংগীত এখন অনেকবেশি বাণিজ্যিক। শিল্পীর সম্মানীসহ পুরো খরচ প্রায় লাখ রুপি ছাড়িয়ে যায়...

ওস্তাদ জাকির হোসেন : এবং এটা যদি কোন চলচ্চিত্র ব্যাক্তিত্বের অনুষ্ঠান হয়, তবে তা কোটি রুপি খরচ হয়। রক শো হয় তাহলে মিলিয়ন রুপি খরচ হয়। শিল্পীরা সরকারের কাছ থেকে কোন ভাতা পায় না। এমন কোন কমিটি নেই যা বৃদ্ধ বয়সে তাদের দেখাশোনা করে। এমন কোন পদ্ধতি নাই যেখানে একজন শিল্পী ৬০-৬৫ বছর বয়সে অবসর নিতে পারে এবং মাসে তাদেরকে দশ হাজার রুপি করে ভাতা দেয়া হয়। আমি চরম দারিদ্র্যের মধ্যে মহান শিল্পী মরতে দেখেছি এবং কিংবদন্তি এই মানুষটি তার নিঃসংগতা কমাতে পারেন না। নিকট অতীতেও একজন শাস্ত্রীয় শিল্পীকে মাত্র ১০০০ কিংবা ১৫০০ টাকার বিনিময়ে পারফর্ম করার জন্য ডাকা হতো। যেখানে আশা ভোঁসলকে ডাকা হয় ২৫ হাজার টাকায়। যখন তাদের জিজ্ঞেস করা হয় এই বৈষম্য কেনো? তারা বলে, ঐটা কমার্শিয়াল অনুষ্ঠান। যদি কেউ আমাদের দেখাশোনার দায়িত্ব না নেয় তবে আমাদের নিজেদের দায়িত্ব নিজেদেরই নিতে হবে। এটা শাস্ত্রীয় সংগীতকারদের নিজস্ব নিরাপত্তার জন্য, যে কারণে তারা আজ তুলনামূলকভাবে অধিক টাকা দাবি করছে।

আপনি কী সিনেমায় সংগীত দেয়ার কোন পরিকল্পনা আছে?

ওস্তাদ জাকির হোসেন : চলচ্চিত্রে মিউজিক দেয়ার ক্ষেত্রে আমি তেমন আগ্রহী না। এখানে যোগ্য কোন সংগঠন নাই।এখানে সবকিছু সম্পন্ন করা হয় পরিচালকের সময় মতো। ডেডলাইনের সাথে কখনো কিছু হয় না। সেইসাথে একজনকে ৫ থেকে ১০ টা সুর তৈরি করতে হয় একটা গানের জন্য। যেখান থেকে পরিচালক একটা পছন্দ করবেন। সেইসাথে একটা গান একবারে রেকর্ড করা হয়না। যদি আজ আমরা দুটো গান তৈরি করি তবে পরবর্তী গানের জন্য একমাস অপেক্ষা করতে হয়। আমাকে অনুষ্ঠানের জন্য সারা পৃথিবী ভ্রমণ করতে হয় এবং যে কারণে সিনেমার জন্য সময় বের করা কঠিন। সেইসাথে তাদের অনিশ্চিত শিডিউল ত আছেই। এরপরো আমি বেনার্দো বার্তোলচ্চির ‘লিটিল বুদ্ধা’ এবং ইসমাইল মার্চেন্টের ‘ইন কাস্টডি’তে মিউজিক দিয়েছি। এসব সিনেমায় মিউজিক দেয়া অনেক বেশি সুবিধাজনক কারণ সবকিছু আগে থেকেই সংগঠিত অবস্থায় থাকে এবং সব কাজ সময়মত হয়েছে। আমি সিনেমায় মিউজিক দিতে পছন্দ করব, যদি তা আমার প্রথম প্রেম তবলার প্রতি ভালোবাসাকে অনুভব করতে পারে।

আপনি দুটি সিনেমায় অভিনয় করেছেন। আনন্দ পেয়েছেন?

ওস্তাদ জাকির হোসেন: আমি সেগুলো দেখার পর বুঝেছি আমি তবলাবাদক হিসেবে বরং ভালো। অভিনয় আমাকে শিখিয়েছে মঞ্চে পারফর্ম করার সময় কীভাবে আবগকে দৃশ্যমান করতে তুলতে হয়।

আপনার পরিবার কী সংগীতের প্রতি অনুরক্ত?

ওস্তাদ জাকির হোসেন: আমার স্ত্রী কত্থক নৃত্যশিল্পী। আমার এক মেয়ে চলচ্চিত্র নির্মাতা, আরেক মেয়ে নাচের শিক্ষিকা। সে সিতারা দেবীর কাছ থেকে তালিম নিয়েছে। আমরা সবাই আমেরিকায় একসাথে পারফর্ম করেছি। পরিবারে এমন মেধাবী মানুষ থাকাটা দারুণ অনুভূতির ব্যাপার।


Hasnat Soyeb

হাসনাত শোয়েব

Poet & Writer

হাসনাত শোয়েব মূলত কবি। গদ্য এবং অনুবাদের কাজও করেন কখনো কখনো। জন্ম ১৯৮৮ সালে চট্টগ্রামে। বর্তমানে ঢাকার হাতিরপুল এলাকায় থাকেন। কাজ করেন স্পোর্টস জার্নালিস্ট হিসেবে। সিস্টেম অফ অ্যা ডাওনের অন্ধ ভক্ত শোয়েবের বিশেষ আগ্রহ রক মিউজিক এবং স্পোর্টস বিষয়ে। এখন পর্যন্ত দুটি বই প্রকাশিত হয়েছে। ২০১৫ সালের বইমেলায় মেঘনাদ থেকে তাঁর প্রথম কবিতার বই 'সূর্যাস্তগামী মাছ' প্রকাশিত হয়েছিল। ২০১৭ সালে জেব্রাক্রসিং প্রকাশ করে দ্বিতীয় কবিতা বই ‘ব্রায়ান অ্যাডামস ও মারমেইড বিষ্যুদবার’।