গডেস অব অ্যামনেশিয়া-২১

img

আগের পর্ব

ভুলে ফেলে আসা শব্দ-আলো-ছবি: ১৯৯৬-২০০১

 

কিন্তু সবকিছু ছাপিয়ে অন্য একটা শরীরের গন্ধ ভেসে এলো এতো বছর পরের বাতাসে! পুরাতন, দু:সহ, সুতীব্র! একুশ বছর আগে গা গুলিয়ে দেয়া সেই গন্ধের ভিড়ে আমি আরও একবার হারিয়ে যাচ্ছি! উনিশশ’ ছিয়ানব্বই তখন। সেই বছর আমার আর স্কুলে যাওয়া হয়নি, ওই একদিনই তেঁতুলতলায় ক্লাস করে ঘুরে এসেছি। আগের মতোন সারাদিন এদিক ওদিক হাঁটি, খেলি, দৌড়াই। সন্ধ্যা হলে ঘরে ফিরে পড়তে বসতে হয়। শুক্রবারটা একটু অন্যরকম কাটে। বিশেষ করে বিকেলবেলা। তিনটার পর সারা বাড়ি বসে যায় সিনেমা দেখতে। কখনও দাদীর ঘরে, কখনও উঠানে। টিভির সামনে আমার ছোট্ট চেয়ারটাও পাতা থাকে। কিন্তু একটানা বসে ছবি দেখার ধৈর্য্য তখনও হয়নি। খানিকক্ষণ দেখি, এরপর মন চাইলে উঠে সেই জারুল গাছ, পুকুর পাড়।
 

তখন ভাদ্র মাস চলে। তালের ঘ্রাণমাখা দিন। দাদী, ফুপু আর মায়ের সিনেমা দেখা শেষ হলে, কলার পাতায় তালের পিঠা ভাজা হবে সন্ধ্যা বেলা। সেইদিন শুরু থেকেই তাই আমার সিনেমা শেষের অপেক্ষা। মন বসাতে পারছিলাম না। মিনিট বিশেক পরে উঠে এক দৌড়ে চলে গেলাম আমার প্রিয় গাছের কাছে। পুকুর তখন জলে ভরা। গাছটাতে চেপে বসলে – আমার সামান্য ভারেই- নিচের ডাল-পাতা পানিতে ডুবে দুলতে থাকে। সে অন্য এক জীবন্ত আনন্দ!
 

আমার আনমনা চোখের সামনে জনহীন শূন্য মাটির পথ পড়ে আছে। চারিদিকে কোথাও কোন মানুষের চিহ্ন নাই। কেবল আমি একলা মানুষ। আমাকে ঘিরে আছে আকাশ-মেঘ- পুকুর-পাখি-গাছ-মাটি। গত সপ্তাহে দেখা ছবির গানের একটা সুর তখনও মাথায় গেঁথে ছিল, কথা মনে করতে পারছিলাম না। তবু চোখ বন্ধ করে সেই সুরে ডুব দিয়ে, পুকুরের জলে বড় বড় ঢেউ তুলে আমি দুলতে লাগলাম।
 

জানিনা কতক্ষণ এমন কেটে গেল। যখন চোখ খুললাম তখন সামনের শূন্য পথ আর শূন্য নাই। পুকুরের ঢেউ-ওঠা জলে প্রায় বিশ বছর বয়েসী একজন মানুষের ছায়া। ঠিক গাছ বরাবর, আমার মুখের দিকে টানা তাকিয়ে আছে। চোখে রহস্যের হাসি।
 

-‘মনে অইতাছে এই গাছে উইঠ্যা দোল খাইতে বহুত মজা। আমাকও এল্লা উইঠপ্যার দ্যাও।’ 
 

প্রায় অচেনা একজন মানুষ। মুখ চিনি কিন্তু নাম-পরিচয় জানি না। দেখতে ভালো, লম্বা গড়ন। সুন্দর গলার স্বর। আমি অন্য কোন উত্তর না দিয়ে বেশ প্রসন্ন মুখেই বললাম –‘আচ্ছা’।
 

গাছ ছেড়ে নামতে যাবো এমন সময়- ‘তোমার নামার দরকার নাই। তুমি বইসাই থাকো’- বলতে বলতে সে প্রায় লাফ দিয়ে আমার ছোট্ট গাছটায় উঠে পড়ল।  মনে হল ভেঙে পড়ে যাচ্ছি জলে। গাছটি কোন রকমে নতুন মানুষটির বড় শরীরের ভার সামনে নিল। আমি ভয়ে একটা ডাল ধরে, এক পা ঝুলিয়ে দিয়ে দাঁড়িয়ে পড়েছি ততক্ষণে। গাছ ভেঙে জলে পড়ার আগেই মাটিতে লাফিয়ে পড়ব- এমন প্রস্তুতিও আছে মনে মনে। মানুষটির চোখ মুখ তখনও উজ্জ্বল, ভয়-ডর কিছু নাই সেখানে। তিন-ডালে তৈরী হওয়া চেয়ারের মতোন আসনটায় সে বসে পড়ল। এরপর একটানে আমাকে তুলে নিল তার কোলে। গাছটি তখনও ভয়ানক রকমে দুলছে। পুকুরের জলে বিশাল বিশাল ঢেউ, যেন মাত্রই কোন ঝড় বয়ে গেছে।
 

প্রায় নতুন মানুষটি একহাতে আমাকে জোরে চেপে ধরে রেখেছে নিজের গায়ের সাথে, তার আরেক হাত আমার বুকে। আমার খোলা ঘাড়ে তার নাক-মুখ। তার বাম হাত নামতে নামতে একটা সময় আমার নাভির নিচে পৌঁছাল- আমার আরও ভয় করতে লাগল। আমি উঠে নেমে যাবো্ কিন্তু এতো জোরে আমাকে জাপটে ধরে আছে, আমি ছুটতে পারছিলাম না। আমি জোরে কাঁদতে লাগলাম। কিন্তু আশেপাশে তখন কেউ নাই। আমার কান্নার সুর তীব্র হতে লাগল,  আমার ছয় বছরের শরীর যথাসাধ্য শক্তি খাটিয়ে ছুটতে চেষ্টা করছে। মানুষটিও  ধীরে ধীরে হিংস্র হয়ে উঠছে। একপর্যায়ে মনে হল আমাকে যেন পান-সুপারির মতোন দাঁত দিয়ে ভেঙে সে চুরমার করে দিচ্ছে। প্রচণ্ড ভয়ে আমি তখন পাগলপ্রায়। মানুষটিও যেন তার সর্বশক্তি দিয়ে আমাকে তার বুকের সাথে পিষে ফেলতে চাইছে। একটা পর্যায়ে এসে গাছটি আর সহ্য করতে পারল না। তিনটা ডালের দু’টো ভেঙে আমরা শব্দ তুলে জলে গড়িয়ে পড়লাম।
 

যখন উঠে আসলাম আমার মনে হলো ভেজা চামড়ার নিচে শরীরের সমস্ত হাড় ভেঙে গুড়ো হয়ে আছে। মানুষটি আমার দিকে চোখ লাল করে চেয়ে থাকল কিছুক্ষণ, তারপর দ্রুতপায়ে ভেজা কাপড়ে বড় রাস্তার দিকে চলে গেল। আমি আরও জোরে গগনবিদারী সুরে কাঁদতে লাগলাম। আমার মনে হতে লাগল ওই মানুষটার সারা শরীরের গন্ধ আমার লোমে লোমে গেঁথে গেছে। জীবনে ওই প্রথম একটা গা-গুলানো অনুভূতি হলো আমার। পরে সারা শরীর সাবান দিয়ে কতোবার ধুয়েছি- এরপর কতোগুলো বছর কেটে গেছে কিন্তু শৈশবের শরীরে গেঁথে যাওয়া নাম-না জানা মানুষটার সেই হিংস্র গন্ধ এখনও ভুলতে পারি নাই!
 

ভেজা গায়ে আমি উঠানে ফিরে এলাম। পরিচিত সকল মানুষ উঠানে বসা। অন্যদিন এই অসময়ে কাপড় আর শরীর ভেজা দেখে মা দৌড়ে আসতেন। বাবা হযতো কিছু বুঝে ওঠার আগেই বকতে শুরু করতেন। নতুন ফুপু একটা গামছা আর শুকনা কাপড় হাতে ছুটে আসতেন। আদর করতে করতে বোঝানো শুরু করতেন এই অবেলায় গা ভেজানোয় কত রকমের কী পরিমাণ ক্ষতি। কিন্তু আশ্চর্য সবাই আছে উঠানে, অথচ আমাকে কেউ খেয়াল করল না। মা দেখেও দেখলেন না। আমি তার চোখের অনেক কাছে গিয়ে দাঁড়িয়ে রইলাম বহুক্ষণ, তিনি ফিরেও তাকালেন না। উঠানভর্তি মানুষ স্তব্ধ হয়ে আছে কেন বুঝতে পারছিলাম না। প্রচণ্ড একলা আর হতাশ হয়ে- আমি ঘরের দুয়ারে গিয়ে ভেজা কাপড়ে বসে পড়লাম।
 

বিকাল চারটায় তখন পাঁচ মিনিটের একটা সংবাদ প্রচার হত প্রতিদিন। মৃত্যুর খবরটা সেখান থেকেই জানল সবাই। এতো অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু এই দেশে বোধহয় গত একযুগে আর ঘটে নাই। আকস্মিক শোকে মানুষগুলো একসাথে হঠাৎ অনুভূতিশূণ্য হয়ে গেছে। খবর শেষ হয়ে সিনেমা শুরু হয়ে গেছে তবু কারও ঘোর কাটে নাই। দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় ফিল্মস্টার মাত্র চব্বিশ কি পঁচিশ বছর বয়সে মারা গেছেন। রাজধানীর নিজ বাস ভবনে সিলিং ফ্যানের সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় তাঁর লাশ পাওয়া গেছে। হত্যা নাকি আত্মহত্যা বোঝা যাচ্ছে না। পরের কয়েকটা মাস সারা দেশ ডুবে থাকল সেই শোক আর রহস্যের ঘোরে। তারা সারাদিন ওই এক আলাপেই মগ্ন থাকে। পত্রিকাগুলোর প্রথম পাতায় কত শত তথ্য নিয়ে নতুন নতুন রিপোর্ট আসে। কিন্তু কোনভাবেই কেউ নির্জলা সত্যি জানতে পারে না। দেশ ভর্তি মানুষের এতো শোকের মাতম কোন কাজে লাগে না। ধূমকেতু দেখার মতোন স্মৃতি জমিয়ে মানুষ এগিয়ে যায়, সব ভুলে তাদের এগিয়ে যেতে হয়।  
 

আর প্রায় অচেনা মানুষটার ওই ঘটনার পর আমার জীবনধারাও অন্যরকম হয়ে গেল একবোরে। বিকেল গুলো নিশ্চল, চুপচাপ থাকি। দূর থেকে ডালভাঙা প্রিয় গাছটাকে দেখি। কাছে যাওয়ার সাহস হয় না। হেমন্ত এসে হেমন্ত চলে যায়। ধানের গন্ধে বাড়ি ভরে থাকে একটা মাস। আমার তবু ওই একটা গন্ধ ভোলা হয় না। আমি কোন এক অজানা যুদ্ধে নামি গোপনে। কারও বোঝার সাধ্য থাকে না। সেই যুদ্ধে একেকদিন একেক ফল আসে। কোন কোন দিন জিতে যাই। কিন্তু বেশিরভাগ দিনেই অন্যপক্ষ হেসে ওঠে। আমি ভারী মন গোপন করে সন্ধ্যাবেলা টিউবওয়েল পাড়ে যাই। ঠাণ্ডা মুখ হাত ধুয়ে ঘরে ঢুকি।
 

আর এই রকম যুদ্ধ যুদ্ধ একটা বিকালে আমাকে আর দাদীকে প্রচণ্ড একলা করে দিয়ে নতুন ফুপু চলে যান। তাঁর যাওয়ার দৃশ্য অবশ্য আমার দেখা হয় না। আমার মায়া কাটিয়ে যাওয়া তাঁর জন্যে প্রায় অসাধ্য কিছু ছিল। তাই কাপড়, বাক্স সবকিছু গোপনে গুছিয়ে রেখে  আমার ঘুমের  অপেক্ষায় ছিলেন। দিনের বেলা আমি সাধারণত ঘুমাই না। কিন্তু সেদিন কোন কুক্ষণে ক্লান্তি আর ঘুম এসে আমাকে শুইযে দিল। যখন ঘুম ভাঙল প্রায় সন্ধ্যা। সারা বাড়ি নীরব। চোখ মুছতে মুছতে রান্নাঘরের কাছে গিয়ে দেখি দাদী চুলা জ্বালানোর চেষ্টায় ব্যস্ত। একটা পাতিলে পানির মধ্যে সিদ্ধ করার জন্যে আলু আর ডিম রাখা। অল্প কিছু চাল ধুয়ে রাখা আরেকটা পাতিলে। আমি ভয়াবহ রকমের অবাক হলাম। এই ছয সাত বছরের জীবনে কোনদিন দাদীকে রাঁধতে দেখি নাই। দাদীর বিষণ্ণ, জমাট মুখ দেখে কিছু জিজ্ঞেস করারও সাহস হলো না। মায়ের কাছে জানতে পারলাম আসল খবর। সামনের সপ্তাহে ফুপুর বিয়ে। যমুনার বাঁধের পাড়ে নতুন ঘর তোলা হয়েছে, নতুন উঠান, নতুন চুলা। এখন থেকে সেখানেই থাকবেন তিনি। তাঁর মা কোথা থেকে যেন ফিরে এসে প্রায় জোর করে তাঁকে নিয়ে গেছেন । ফুপুর হবু বর রিকশা চালায়। বাড়ি রংপুরের কোন এক গ্রামে। দেখতে শুনতে ভালো। কয়েক সপ্তাহ হলো আমাদের বাঁধের ঢালে ঘর তুলে থাকে। সেই লোক চায় না তার স্ত্রী অন্য কোন বাড়িতে কাজ করুক। তাই এতো তাড়াহুড়া করে চলে যাওয়া।  
 

যাওয়ার সময় নাকি দাদীর পা জড়িয়ে ধরে হাউমাউ করে কেঁদেছেন ফুপু। কিন্তু দাদী একদম কাঁদে নাই। হাতে হাজার খানেক টাকা আর একটা নতুন শাড়ি দিয়ে কথাহীন বসে ছিল নিজের ঘরে। তার বুক হয়তো ফেটে যাচ্ছিল। এই মেয়েকে এতোটা বছর নিজের সন্তানের মতো আগলে রেখেছিল সে। কিন্তু আজ  হঠাৎ মনে হলো আদতে এই মেয়ে পর, তাকে আটকানোর অধিকার দাদীর নাই। নিজের সুখ স্বাচ্ছন্দ্যের জন্যে অন্য একজনের মেয়েকে আজীবন ধরে রাখার মতোন স্বার্থপর সে  হতে পারবে না। নিজের কাজ নিজেই করতে পারবে বলে দাদী পাথরের মূর্তি হয়ে বসে রইল বহুক্ষণ। যাওয়ার আগে আমাদের ঘরে এসে ঘুমন্ত আমাকে প্রাণ ভরে দেখে গেছেন নতুন ফুপু। পথে যেতে যেতে যতটুকু সম্ভব পিছন ফিরে বারবার  দেখেছেন দাদীর ঘর, উঠান, দারুচিনি , পেয়ারার গাছ, মায়ার ছায়া পড়া বাড়ির ঢাল। এতোকাল পরের বাড়িকে আপন ভেবে ভুলে ছিলেন নিজের জগত, পরিচয়। শেষমেশ সব ঘোর ছেড়ে অসহায় চলে যেতে হচ্ছে অন্য ঠিকানায়।
 

ওইদিন রাতে দাদীর ঘরে জরুরী বৈঠক বসে । বাবা, চাচা, মা, চাচী- সবাই ব্যস্ত হয়ে পড়েন অতি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায়। দাদীর বয়স হয়েছে এখন নিজ হাতে সব কাজ করে খাওয়া তার পক্ষে অসম্ভব। নতুন কোন এক মেয়ের সন্ধান করার কথা বলছেন কেউ কেউ। কোন কোন ছেলে  দাদীকে নিজেদের ঘরে খেতে অনুরোধ করে। দাদীর চোখে মুখে দুশ্চিন্তার ছাপ তবু কাটে না। বিশ্বাস করা যায় আবার কাজে কর্মে ভালো এমন কাউকে খুঁজে পাওয়া সহজ না। এই মেয়েকে না চাইতেই পেয়ে গিয়েছিলেন কপাল গুণে। সব বুঝত সে, কখন কী প্রয়োজন, কখন কী বলতে হবে, করতে হবে। তেমন কাউকে আবারও পাওয়া আদৌ সম্ভব? কোন এক ছেলের সংসারে ঢুকে যাওয়া মানে পরাধীনতা। দাদী এই যে এতোদিন নিজের মতোন মাথা উঁচু করে বেঁচে ছিলেন, এখন কারও মুখাপেক্ষী হতে তার মন সায় দিচ্ছে না।

পশ্চিম কোণায় টিভিতে আটটার খবর চলছে। সেখানে এদেশের প্রধানমন্ত্রী দূর জাপান দেশ চষে বেড়াচ্ছেন দৃপ্ত পায়ে। বিমানবন্দর থেমে সম্রাটের প্রাসাদ। শহর থেকে গ্রাম। গলায় মুক্তার মালা, চোখে চশমা, সাদা-লাল জামদানি পরে এক বিকেলে ধীরে পায়ে বিদেশী মঞ্চে গিয়ে উঠলেন দেশের স্বাধীনতম নারী। সামনের খোলা মাঠে হাজার হাজার জাপানি তাকে অভিবাদন জানিয়ে হাত নাড়ছে। নেত্রীর মুখে ভুবন জয়ের হাসি।

 

 

চলবে…


Muktadir Abdullah Al

আব্দুল্লাহ আল মুক্তাদির

Writer

আব্দুল্লাহ আল মুক্তাদিরের জন্ম সিরাজগঞ্জে। ১৯৯০ সালে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে পড়াশোনা শেষ করে এখন শিক্ষকতা করছেন ত্রিশালের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগে। দৈনিক সংবাদের সাহিত্য পাতায় ছোটগল্প ও কবিতা প্রকাশের মাধ্যমে আত্মপ্রকাশ ২০১০ সালে। ২০১৬ সালের একুশে বইমেলায় প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ অন্য গাঙের গান, সমুদ্রসমান।