মকবুল ফিদা হুসেন ভারত ছেড়েছিলেন যে কারণে !

img

১৯৩৫ সালে মকবুল ফিদা হুসেন সিনেমা পরিচালক হওয়ার স্বপ্নে মুম্বাই আসেন । পরবর্তীতে তিনি সিনেমা পোস্টার আঁকার মাধ্যমে তাঁর পেইন্টিং ক্যারিয়ার শুরু করেন । ফিদা’র বাবা ছেলের প্রতিভা টের পেয়ে একজন টেইলর এবং নকশাকারের সাথে পরিচয় করিয়ে দেন যাতে ফিদা আরো ভালো পেইন্টিং টেকনিক শিখতে পারেন । মকবুল ফিদা মূলত ক্যালিওগ্রাফি শেখার পরপরই পেইন্টিং এর প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠেন । আর্টিস্ট মকবুল ফিদা সিনেমা পোস্টার আঁকাআঁকির পাশাপাশি বাড়তি উপার্জনের জন্যে একটি খেলনা তৈরির কোম্পানিতেও চাকরি শুরু করেন। সেখানে তিনি মূলত খেলনা ডিজাইন করতেন । ১৯৫২ সালে জুরিচে মকবুল ফিদা’র প্রথম একক প্রদর্শনী হয় । ১৯৬৬ সালে তিনি পদ্মশ্রী, ১৯৭৩ সালে পদ্মভূষন এবং ১৯৯১ সালে পদ্মবিভূষন উপাধি লাভ করেন । ১৯৮৬ সালে তিনি রাজ্য সভা সদস্য পদ লাভ করেন । ১৯৭১ সালে তিনি ব্রাজিলে অনুষ্ঠেয় সাও পাওলো বিয়েনালে পাবলো পিকাসোর সাথে বিশেষ অতিথি হিসেবে আমন্ত্রিত হন । তাঁর বয়স যখন পঞ্চাশের কাছাকাছি তখন তিনি বোম্বে প্রগতিশীল আর্টিস্ট গ্রুপের ফাউন্ডিং মেম্বার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন ।

মকবুল ফিদা হুসাইন সেই ছোট বেলা থেকেই হিন্দু মিথোলজির সাথে পরিচিত ছিলেন। তিনি হিন্দু তীর্থস্থান পাধরপুরে জন্মগ্রহন করেন। ইন্দোরে তিনি রামলীলা মঞ্চনাটক দেখতে দেখতে বেড়ে উঠেন। মহাভারতের উপাখ্যান তাঁর কাজে আনার আগে তিনি বিভিন্ন পন্ডিতের মূখ থেকে শোনা এবং বিভিন্ন পুঁথি থেকে পড়া তথ্যগুলো আরো গভীরভাবে পাঠ-উপলব্ধির মাধ্যমে ঝালাই করে নিয়েছিলেন।

১৯৯০ সালের আগেও কেউ বলেনি মকবুল ফিদা হুসাইন হিন্দু ধর্মের বিশ্বাসের উপর আঘাত এনেছেন। মকবুল ফিদা হুসাইন হাজাররকম ইন্ডিয়ান কালচারের মিলন ঘটানোর চেষ্টা করে গেছেন। তিনি কালচারে থাকা ভায়োলেন্স, নৈরাশ্য ও হতাশাকে আনন্দ ও উৎসবের আমেজে ইন্টারপ্রিট করেছেন। তিনি তাঁর কাজে সব ফেলে দিয়ে হিন্দুইজমের কেবল উৎসবমূখর স্পিরিটটাই নিয়েছিলেন। অথচ উগ্রবাদী হিন্দুরা তা বুঝতে পারেনি। তারা তাদের ধর্ম ও বিশ্বাসের উপর আঘাতের অভিযোগে ফিদা হুসাইনকে দেশ ছাড়া করেছিলেন।

১৯৭০ সালে আঁকা দেবী সিরিজের একটি স্কেচ মূলত ঘটনার সূত্রপাত করে । সেই ছবিটি ১৯৯০ সালে উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা ভূল ভাবে ব্যাখ্যা করার মাধ্যমে সাধারণ হিন্দুদের ক্ষেপিয়ে তোলে । ১৯৯৮ সালে কট্টর হিন্দুত্ববাদীরা মুম্বাইয়ে শিল্পীর নিজ বাড়িতে আক্রমন করে এবং তাঁর অনেক ছবি জ্বালিয়ে নষ্ট করে দেয় । ফিদা হুসেনকে ক্রমাগত হত্যার হুমকি দিতে থাকলে বাধ্য হয়ে তিনি ২০০৬ সালে ভারত থেকে চলে যান । তিনি দুবাই, লন্ডন এবং কাতারে বসবাস করতে থাকেন । পরে ৯৫ বছর বয়সে লন্ডনের রয়াল ব্রম্পটন হাসপাতালে আর্টিস্ট মকবুল ফিদা হুসেন মারা যান ।

১৯১৫ সালে জন্ম নেয়া ফিদা হুসেনকে ফোর্বস ম্যাগাজিন ‘ভারতের পিকাসো’ বলে আখ্যায়িত করে ।  একবার এক টেলিভিশন ইন্টারভিউতে তিনি তাঁর শিল্পের ভিশনের সাথে ভারতের ৫০০০ বছরের গ্রেট কালচারের সংযোগ আছে বলে জানান । 

মকবুল ফিদা হুসেনের জীবন ও শিল্প নিয়ে বেশ কানাঘুষা আছে । তিনি খালি পায়ে হাঁটতেন এবং এই কারণে তিনি বোম্বের একটি অভিজাত প্রাইভেট ক্লাবে ঢুকতে পারেন নি । তাঁর পরিচালনায় তৈরি ম্যুভি “মিনাক্ষী : এ টেল অফ থ্রী সিটিস” ও মুসলিম সম্প্রদায়ের আপত্তির মুখে পড়ে । ওই সিনেমার একটি গানের কলিতে কোরান থেকে সরাসরি আয়াত নেয়া হয়েছিল । তিনি প্রতিদিন ভোর চারটায় উঠে ছবি আঁকতেন । উজ্জ্বল ও গাঢ় রঙের প্রতি ছিল তার দুর্বলতা ।

 


Eprokash Feature

ফিচার

개발 지원 대상