আপনি ধনুষ্টংকার ঝুঁকিতে নেই তো?

img

ধনুষ্টংকার বা টিটেনাস (tetanus) ব্যাকটেরিয়াজনিত কারণে হয়। ক্লসট্রেডিয়াম টেটানি (Clostridium tetani) মাটি, ময়লা বা পায়খানায় পাওয়া যায়। ক্লসট্রেডিয়াম টেটানি একটি এনেরোবিক (Anaerobic) ব্যাকটেরিয়া, অর্থাৎ এসকল ব্যাকটেরিয়া অক্সিজেনের অনুপস্থিতিতে বেচে থাকে। যখন গভীরভাবে কোন কাটা-ছেঁড়া হয়, ময়লা বা মরিচা আছে এমন কিছু দিয়ে শরীরের কোন অংশ কেটে যায়, অথবা আগুনে কোন অঙ্গ পুড়ে যায় তখন ধনুষ্টংকার হওয়ার ঝুঁকি থাকে বেশি। এই ব্যাকটেরিয়া গুলো ক্ষতস্থানে একপ্রকার শক্তিশালী টক্সিন (Tetanus toxin) ছড়িয়ে দেয়। এই টক্সিন রক্তের মাধ্যমে মানুষের মস্তিষ্কে গিয়ে পৌঁছায়। মস্তিষ্কে এই টক্সিন মানুষের শ্বাস-প্রশ্বাস নিয়ন্ত্রন ও অন্যান্য শারীরিক গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটায়। মামস, হাম, রুবেলা বা পোলিও’র মত ধনুষ্টংকার ছোঁয়াচে নয়।

ধনুষ্টংকারের বিষ যখন শরীরে পুরোপুরি ছড়িয়ে যায়, তখন ঘাড় ও গলার মাংসপেশী শক্ত হয়ে যায়। মূখ ও চোয়াল নাড়াচাড়া করা যায় না। এই অবস্থাকে বলা হয় ‘লক জ’(Lock jaw) । পরের ধাপে শরীর বেঁকে যেতে থাকে। অল্প আলো কিংবা শব্দেই রোগীর মাংসপেশীতে খিঁচুনী আসে। রোগী কিছু গিলতে পারেনা এবং নিঃশ্বাস আটকে আসে। এভাবেই একসময় রোগী মারা যেতে পারে।

ধনুষ্টাংকার থেকে বাঁচতে টিটেনাস ভ্যাকসিন দেয়া জরুরী। প্রত্যেক শীশুকেই তার বয়সের ২ মাস থেকে ৪/৬ বছরের মধ্যে ৫ টি ভ্যাকসিন শট (Vaccine shot) দেয়া হয়। এটাকে বলা হয় প্রাইমারি ভ্যাকসিন সিরিজ। ১১/১২ বছর বয়সে প্রথম বুস্টার শট টিটেনাস ভ্যাকসিন দেয়া হয়। গর্ভবতী থাকা অবস্থায় মা'দেরও একটি বুস্টার শট টিটেনাস দেয়া হয়। এরপর প্রতি দশ বছর অন্তর অন্তর টিটেনাস বুস্টার শট দিতে হয়।


Eprokash Feature

ফিচার