অদ্ভুত সব গাছ (১)

img

ড্রাগন ব্লাড ট্রি

"ড্রাগন ব্লাড ট্রি" এক বিস্ময়কর গাছ। ইয়েমেনের সোকোত্রা দ্বীপপুঞ্জ ছাড়া এই গাছ বিশ্বের আর কোথাও জন্মায় না। বিজ্ঞানীদের মতে, বর্তমান গাছগুলি আসলে প্রাগৈতিহাসিক অরণ্যের অবশিষ্টাংশ। প্রায় সাড়ে তিন কোটি বছর আগে মূল আরব ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় সোকোত্রা দ্বীপপুঞ্জ। এই কারণে এই দ্বীপপুঞ্জে বিবর্তনের প্রভাব পড়েনি। প্রকৃতির খেয়ালে তাই এখানে পরিবর্তনের ছাপ পড়েনি। তার জেরেই এখনও টিকে রয়েছে অতি প্রাচীন হরেক রকম প্রজাতির গাছ। প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে সঙ্গে আকৃতিগত দিক থেকেও ইয়েমেন প্রজাতন্ত্রের সোকোত্রাকে পৃথিবীর 'মোস্ট এলিয়েন লুকিং প্লেস' বলে বর্ণনা করা হয়। ড্রাগন ব্লাড গাছের ওপরের অংশে থাকে সবুজ পাতার ঠাসবুনোট, যা দূর থেকে ছাতার মতো দেখায়। গাছের গুঁড়ি থেকে ঘন লাল রঙের আঠা বের হয় যা বিভিন্ন আয়ুর্বেদিক ওষুধ এবং রং তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। গাছের গাঢ় লাল রস থেকেই স্থানীয়দের মুখে গাছটির নাম হয় ড্রাগন ব্লাড ট্রি। তবে পরিবেশ দূষণের কারণে ক্রমেই এই বিরল গাছের অস্তিত্ব সঙ্কটময় হয়ে উঠেছে। আবহাওয়ার ব্যাপক পরিবর্তনের কারনে আর্দ্রতা হারাচ্ছে এই অঞ্চলের বাতাস। ফলে দ্রুত শুকিয়ে যাচ্ছে ড্রাগন ব্লাড ট্রি-রা। বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা, আগামী ২০৮০ সালের মধ্যে পৃথিবীর বুক থেকে চিরবিদায় নেবে প্রকৃতির অন্যতম এই আদিম সন্তান।

অ্যাভিনিউ অব দ্য বাওবাবস ও ড্রাগন ব্লাড ট্রি

অ্যাভিনিউ অব দ্য বাওবাবস

মাদাগাস্কারের ম্যারোনডাভাতে অবস্থিত এই জায়গাটির নাম 'অ্যাভিনিউ অব দ্য বাওবাবস'। এ স্থানে রয়েছে বেশ কিছু বাওবাবস গাছ। গাছগুলোর উচ্চতা প্রায় ১০০ ফুট। মাদাগাস্কারে এ গাছগুলো রেনালা নামে পরিচিত হলেও মালাগাছিতে এগুলোকে 'মাদার অব দি ফরেস্ট' বা বনের মা বলা হয়। এ গাছগুলো প্রায় ৮০০ বছরের পুরনো বলে জানা যায়। একসময় এ স্থানে এ ধরনের অসংখ্য গাছ থাকলেও বর্তমানে মাত্র ২০টি রয়েছে।


Asif Raihan

আসিফ রায়হান

পিএইচডি গবেষক

ইনস্টিটিউট অব ক্লাইমেট চেন্জ, ইউনিভার্সিটি ক্যাবাঙসান, মালয়শিয়া