দৈত্যদলের গান: পরীর শহরে তারা যাজক পুরুষ

img

এক্সপেরিমেন্টাল ব্যান্ড ‘দৈত্যদলের গান’ কেবল গানের দলই নয়, কবি-সাহিত্যিক-চিন্তকদলের একটি ক্রিয়েটিভ প্লাটফর্ম। ইতোমধ্যেই আমরা পেয়েছি শবযাত্রা, তামাশার বট, লুট, বুনো মাতলামি, কালা কালা জানোয়ারের মত দারুণ সব গান। দলের অন্যতম সদস্যরা হলেন ইদ্রিস কাজল (কবি/লিরিক), তানভীর রাসেল (কবি/ভোকাল/গীটারিস্ট ), অসীম ইশতিয়াক (লিরিক), রাজন চৌধুরী (মিউজিশিয়ান/চিত্রশিল্পী/লিরিক/ ফিল্ম মেকার), রাজীব খান পাঠান বাপ্পি ( ফিল্ম মেকার/সুরকার/ ভোকাল/মিউজিশিয়ান), চঞ্চল মাহমুদ (কবি/লিরিক), সাদ্দু হাসান (কবি/সুরকার), নীহার লিখন (কবি/লিরিক/ভোকাল), জহির খান (কবি/চলচিত্র নির্মাতা), জাহিদ জগৎ (কবি/ বংশীবাদক), ফুয়াদ হাসান শাইল ( মিউজিশিয়ান/ ভোকাল), সৈকত ধারা (কবি/লিরিক/দার্শনিক), রঞ্জন শুভ্র (কবি/লিরিক/ভোকাল), সফী কামাল রিয়াদ ( কবি/ চিন্তক/ লিরিক/ ফিল্ম মেকিং), নির্ঝর নৈঃশব্দ্য (কবি/ লিরিক/ চিত্রশিল্পী), রাজীব দত্ত (কবি/চিত্রশিল্পী/ চিন্তক), তানভীর আশিক (কবি), দেবাশীষ তেওয়ারী (কবি), আশিক আকবর (কবি/লিরিক), এস এ অপূর্ণ ( ভোকাল/লিরিক/মিউজিশিয়ান/ থিয়েটার কর্মী), ফজলে হাসান শিশির (ফটোগ্রাফার/ ড্রামার), দীপ (মিউজিশিয়ান/বেইজ গীটার), রুদ্র হক (কবি)। ‘দৈত্যদলের গান’ এর সাথে ই-প্রকাশের আলাপ হয়, তাদের গান নিয়ে আলাপ, তাদের বেড়ে উঠা নিয়ে আলাপ। ই-প্রকাশের প্রশ্নগুলোর উত্তর দেন দৈত্যরা, আর তা সংকলন করেন অসীম ইশতিয়াক।

ইপ্রকাশ আর্টস: গানের দলের নাম ‘দৈত্যদল’ কেন?

গানের দলের নাম দৈত্যদলের গান। এরা গান করে। দৈত্যরা বেমানান, বেখাপ্পা মানে বুঝে উঠতে পারে না, বোঝাতে পারে এক ধরনের ভ্রমতাড়িত মানুষ বা প্রাণি, এ যেন তাদের জন্মজাত ত্রুটি। মহাকালে তাদের নিজেকে বহন করতে হয়। এরা স্বয়ংজাত হতে পারে, পারে মিউটেন্ট হতে। কারও উপর নির্ভর না করে, চিন্তা ভাবনা করতে পারে। অ্যামিবার ক্ষণপদী বিকাশের মত করে এরা বড় হতে চায়, টিকে থাকতে চায়। গান তাদের একটা উপযাচিকা মাত্র। সুরকে তারা স্বয়ংকৃত মনে করে, ভ্রমে ভোগে। জড় ও জীবের অন্তর্গত রুপকে আবিষ্কার করতে চায়। অসীমতা বা অসংঙ্গায়িত অঞ্চলে এর যুক্ত থাকে। মহাজাগতিক সাংকেতিক বোধ হিসেবে সুরকে প্রাণ ভাবে। দৈত্য হল অসংখ্য ইচ্ছা পূরণকারী সত্ত্বা। কখনও নিয়তিবাদ দ্বারা তাড়িত, কখনও অভিজ্ঞতাবাদী এক চিরন্তন ধারণা প্রসূত বিকাশমান প্রাণের কোলাহল। শক্তির রুপান্তরের সূত্রর মত অবিনাশী। একধরনের মহাজাগতিক রুপকথার জাগতিক প্রকাশ। যা মানুষের অনুভূতিকে পড়তে ভালবাসে এবং পাথরেরও।এর কোন সীমা-পরিসীমা নাই। যে কেউ এদলে যুক্ত হতে পারে, চলেও যেতে পারে, তবে তাকে দৈত্য হতে হবে, আর দৈত্যরা দৈত্যদের চেনে।আমাদের মহানের ধারণা কৃত্রিম হলেও, তা কিন্তু আছে। সুলতানের আঁকা প্রথম বৃক্ষ রোপন ছবিতে যে রকম বিশাল, শক্ত পোক্ত পেশী বা মাটির ডেলাগুলি একটু বড়, তেমনি দৈত্যদলের গান শুরু হয় অনেক আগে। কেউ কেউ তার রুপকার বা রিলেরেস বহনকারী মাত্র। দৈত্য হল আমাদের অহং এর নাম। দৈত্যদলের গান হল সকল পার্থিব ও অপার্থিব বস্তুর অন্তর্গত কোলাহল। যেহেতু মিউজিক্যাল নোটকে সবচেয়ে বেশী অপার্থিব ধরা হয়। তাই সুরই মাটি ও রং চেনার সক্ষমতা, বোধের সংযুক্তি।নতুন কিছুর প্রচেষ্টা। এ হচ্ছে বিনয়ের সেই লাইন :

সুস্থ্ মৃত্তিকার চেয়ে সমুদ্ররেরা কত বেশী বিপদসংকুল
তার চেয়ে বেশি বিপদের নিলীমায় প্রক্ষালিত বিভিন্ন আকাশ,
এ সত্য জেনেও তবু আমরা সাগরে আকাশে
সঞ্চারিত হতে চাই, চিরকাল হ’তে আভিলাষী। এ হলো চূড়ান্ত অভিলাষ।

ইপ্রকাশ আর্টস: দৈত্যদলের শুরুটা কিভাবে?

দৈত্যদলের গানের শুরুটা অপরিকল্পিত। এটা যে গানের দল হবে, এমন ভাবা যায়নি শুরুর দিকে। বৃষ্টিস্নাত দিনের শেষভাগে এক করুণ কিন্তু মর্মস্পশী হামিং তু...রু....পৃথিবীর বাতাসে ভাসতে থাকে। যুক্ত হতে থাকে বাদকদের কেউ কেউ। শব্দ বাঁধবার কাজ একই সাথে শুরু হয়। আলোর গতি আর শব্দর গতির মত ফারাক হয়ে এগুলো হতে থাকে। আপেক্ষিকতা অনুসারে স্থানের তো একটা প্রভাব থাকেই, কাল পাত্রও তাই। স্থানটি ছিল কাচারিঘাট, ব্রহ্মপুত্রর নদের পাড়, ময়মনসিংহ। এর পর শবযাত্রা গানটি গাওয়া গেল। পরে অনেকই যুক্ত হয়, কাজ করে আপন মনে গান জন্মাতে থাকে। অনেকটা পর্যবেক্ষণ, সঙ্গীত হতে বহুদেরি তবে তারা শিখছে গান এবং প্রাণ একই সাথে বাজাতে। শবযাত্রা গানটি গাইতে গাইতে, দৈত্যদলের গান বুঝতে পারে, জীবিতদের চেয়ে মৃতদের সংখ্যা বেশী। আর চাঁদের আলোর বাসনায় মৃতরা যেন উঠে আসতে চায়, এমন অনেক আফ্রিকান মিথ আছে। তাই তারা মৃতদেরও তাদের গান শোনাতে ভালোবাসে। এ হল সময়ের ভ্রম। এক দীর্ঘ যোগসূত্রতা। দৈত্যদলের গান মনেকরে তারা মহাজাগতিক। কোন নির্দিষ্ট ব্যাক্তি বা জাতিকে চরিতার্থ করার জন্য নয়, পৃথিবীর বাহিরেও যদি কোন প্রাণ আথবা আমাদের হারানো আত্মাদের সাথে যোগাযোগের মাধ্যম। বোধ যদি মানুষের মুক্তির একক হয় কিংবা অনুভূতির, তবে সে অনুভূতির মুক্তির পলিটিক্সটাও করতে চায়। অর্থাৎ অনুভূতি সঞ্চালিত হবার ধারাবাহিকতা রক্ষা করে চলে এবং তা মহান মুক্তিযুদ্ধকে ধারণ করেই। ১৯৭১ কে বিশ্বাস করে এবং স্বাধীনতা বহন করে। বাংলাদেশকে তারা স্বাধীন, সার্বভৌম মানে। অনেকেই যে, মুক্তিযুদ্ধ আর রাজাকারকে সমার্থক ভাবে, ভাবে তারা এটা কেবল পলিটিক্যাল সিদ্ধান্ত ছিল। আবার অনেকে ভাবে মুক্তিযুদ্ধ দুই কুকুরের কামড়া কামড়ির ফল, কিংবা স্বাধীনতাকে বা মুক্তিযুদ্ধকে ইচ্ছাকৃত বলে গন্ডগোল। দৈত্যদলের গান এইসব চিন্তার সাথে আপোষকামী নয়, এই সব জারজদের সনাক্তকারি এবং বিরুদ্ধে।

/শবযাত্রা/

শব যাত্রার দিকে 
যেতে যেতে রে বন্ধু 
বাড়িতে ফেলে আসা 
পাতিহাঁস গুলোর কথা
মনে পড়ে যায় 

রথ যাত্রার দিকে
রঙিন রঙিন পাতিহাঁস 
তোমার আমার পাতিহাঁস 
মনে পড়ে যায়

মেঘ যাত্রার দিকে
তোমার আমার নৌকা বন্ধু 
রঙিন রঙিন নৌকা বন্ধু
তোমার আমার নৌকা বন্ধু 
ভেসে ভেসে যায় 

তোমার আমার যাত্রা বন্ধু 
তোমার আমার যাত্রা 

মেঘ যাত্রার দিকে
রথ যাত্রার দিকে
শবযাত্রার দিকে

শাদা শাদা ফুলরে বন্ধু শাদা শাদা ফুল


ইপ্রকাশ আর্টস: দৈত্যদল সম্পর্কে আপনারা বলছেন এটি একটি ওপেন সোর্স মিউজিক্যাল গ্রুপ। আর গ্রুপ মেম্বার হতে পারেন যেকোন দৈত্য। ব্যাপারটা খুলে বলুন।

আমাদের দৈত্যদলের গান শুরুর দিকের গল্পটা বলি আমরা ভাবতে থাকি এই প্রকৃতি জলবায়ুর মত করে, আমাদের এ অঞ্চলের সকল শিল্পকর্মের মালিক হয়ে দাঁড়ায় তার সকল জনগন। কিংবা শিল্পির কাজ হয়ে দাঁড়ায় সময়কে বহন করা এবং তার নিজের জন্মস্মারক সৃষ্টিকরাও। এগুলো বহুবির্তক। আমাদের আছে চর্যাপদ তা প্রায় অনেক কবির কাজ। তারা অঞ্চল ভেদে ভিন্ন হলেও, একই সময়ের কাজ বলে বিবেচিত। এমন আরও আছে যেমন ধরুন মৈমনসিংহ গীতিকা এত মানুষের মুখে মুখে প্রচারিত হয়ে আসছে। এই ব্যাপারগুলো ভবিষ্যতেও হতেই থাকবে। পৃথিবীর সব রুপকথাতে যেমন মিল পাওয়া যায়, তেমনি মানুষের অংশ, তার সময় ও যাপনকে ধারণ করা। দৈত্যদলের গানও তাই, অনেক মানুষের দানে গড়ে ওঠা একটা দল। এখানে যারা কাজ করে, তারা তাদের প্রাণটাই বিনিয়োগ করে, খুজে পায় মনের খোরাক। সৃষ্টিশীলতায় মেতে থাকা একদল মানুষ। যারা ছবি আঁকেন, কবিতা, গল্প বা উপন্যাস লিখেন, চিন্তা করতে ভালবাসেন, ভাবুক কিংবা তুমুল উদ্বাস্তু ভবঘুরে সবাই মিলেই এদলটা তৈরী। আমরা এই দান অর্থাৎ সুর, গায়কি, লিরিক নিয়েই দানা গঠন করি। সেটাই গান আকারে মানুষের মাঝে ছড়িয়ে যায়। এর প্রকাশ ভঙ্গিমা হল মানুষের প্রাণের সাথে প্রাণের মিলন। সেই হিসেবে একে এখন পর্যন্ত একটা বৈশ্বয়িক বহুমানুষের দল বলা যেতেই পারে, যারা শুধু গান করেনা, চিন্তাও করে। এমন একটা দল অবশ্যই চলে চিন্তা দ্বারা, এবং এদের মূলবিন্দু কিন্তু চিন্তারমিল দর্শনের একাগ্রতা।

/তামাশার বট/ 

সবকিছু ভেঙ্গে ফেলতে ইচ্ছে করে
তোমাদের দালানকোঠা আর প্যাপিরাস মন

আমাদের সহজ সজলা প্রাণ
নিরষ্কুশ মূক-বধির........।

কাটে কাগজ সহবাসে
হাত পায়ে ভার বাঁধা

মগজে ঠাসা এলোমেলো
দূষিত ধোঁয়া

গোলক ধাঁ ধাঁ যেন

ঝড়ে যাওয়া হলুদ হলুদ
পাতার সাথেই আমি মিশে আছি 
চরম পুলকে..

রহস্যে ঘেড়া শুধু 
রোমাঞ্চ এক 
শীতল মৃত স্পর্শ
রয়ে গেছে সাপের শরীরে

আমার ভেঙ্গে পরা
আর হেরে যাওয়া
বাজপাখি হৃদয়
দোটানায়- বাজে দোতারার সুর....

ময়না-কাঁকতাড়ুয়া হৃদয় 
অবিকল বাজে হতাশার হা- হা -কার সুরে..

ডলে ডলে গলে পরে চকলেট..

সবকিছু ভেঙ্গে ফেলি ঔ--
কাঁচ সমুদ্রেঘেড়া..

শব্দ শহর.....

মাটি খূড়ে খূড়ে যাই পৈচাশিক আহ্লাদে....

অহং এক পরিঘ মেঘের.....

আমাদের জানে শুধু তামাশার বট...

মানুষ যেহেতু শুধু বাতাস খেয়ে বাঁচেনা। তাই এটা উৎপাদনের সাথেই যুক্ত থাকবে আর তার খোরতোষ আসবে অন্যকোথাও থেকে, তা অলীক চিন্তা। ভবিষ্যতে এরা পুরো দুরস্ত অনেক অর্থবিত্ত অর্জন করতে পারে, তাদের কাজ দ্বারা। তখন তার বন্টন ব্যবস্থাও তারই ঠিক করে নেবে, আর দলটা ব্যাক্তি নির্ভর নয়। এটা কাজ দেখেই বোঝা যাবে, কেমন তাদের চিন্তা ধ্যান বা ধারণা।

সৃষ্টিশীলতার কপিরাইটের ক্ষেত্রে আমরা গানের লেখক, গায়ক, সুরকারকে উল্লেখ করি অনেক সময় যৌথ কাজও হয়। হয়ত কোন ভবঘুরে একটা গান গেয়েই হারিয়ে গেল, সেতো একটা গান না, তার প্রাণই দান করল। আর মৃতদের জন্য গান গাচ্ছি, তাদের অনুভূতিই তো আমার আপনার মধ্যে বহমান পাই। যাকে পরম্পরা বা পারষ্পরিক যোগসূত্রতা বলা যায়। এটা শুধু জীবন আর মৃত্যুর মধ্যে নয়, এটা প্রেম। চিন্তার সাথে চেতনার মিল, দর্শনগত মিল, কাজই তার প্রমাণ।এসব নিয়ে আর কত চিন্তা করা যায়, কাজ ছাড়া, ভেতরকার অনুপ্রেরণা ছাড়া। যদিও এই মুক্তবাজার অর্থনীতি যুগে, সব কিছুই বিক্রি হয়, মূল্যবোধ, চিন্তাও নির্ভর করে তার অর্থনীতি আর রাজনৈতিক কাঠামোর উপর। এখন সবকিছুকেই জটিল করে দেখার এবং বোঝার সুযোগ থকে। যে কোন কিছুকে জটিল করে ফেলা যায় সহজে। আর আপেক্ষিকতাতো রয়েছে, নানা ভাবে যুক্তি দিয়ে, যে কেউ পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলতে পারে, হয়ে উঠতে পারে নিয়ন্ত্রণকারী। কিন্তু মূল ব্যাপারটা হলো ইনটেনশন বা মানস বা অভিলাষ, মানুষ বুঝবে আমাদের। মোট কথা গান করে অন্য কাজ করা কঠিন। যদি শুধু গানই গাইতে থাকি আমরা অবশ্যই খোরাকী নেব এর বেশী কিছু ত নয়।

/লুট/

লুট হয়ে গেছে মন
লুট হয়ে গেছে
বাতাসে বাতাসে প্রেম উড়ে চলে গেছে 

পাতা গেছে বসন্তে
ফুল বরিষায়
হাসনাহানুরা যাবে প্রতিভোরে হায় 

লুট হয়ে গেছে সব
লুট হয়ে যাবে
বাতাসে বাতাসে প্রেম উড়ে চলে যাবে

উড়ে আসে যে পাখি
না পেয়ে খাঁচা
ছেড়ে যাবে সে পাখি
ঘৃণায় বাসা

ভালোবাসা চিরদিন ভাসা ভাসা
মওসুম শেষে উবে যাবে আশা

লুট হয়ে গেছে মন
লুট হয়ে গেছে
বাতাসে বাতাসে প্রেম উড়ে চলে গেছে

ভাগ্যহীনের মন তামাশার ফুল
বাগানের কোণে ফোঁটে
দেখেনা কেহই 

ঝরে গেছে সব ফুল
সকলি যাবে
ব্যবসায় প্রশাসন সব গিলে খাবে

লুট হয়ে গেছে মন
লুট হয়ে গেছে
বাতাসে বাতাসে প্রেম উড়ে চলে গেছে

ইপ্রকাশ আর্টস: দৈত্যদলের গানের লিরিকসে ভিন্নতা পাওয়া যায়। লিরিকস কে লিখেন?

অনেকেই দৈত্যদলের গানের জন্য লিরিক লেখেন। অনেক সময় কারও কারও চিন্তার শুধু অনুলিখনও চলে।  ভয়ানক ভাবে আমরা পূর্ববর্তী দৈত্যদের কাজকে ভালোবাসি, তাই চাই তাদের কিছু কাজের ছাপ সজ্ঞানে বা অজান্তে আমাদের মাঝে থাক। আবার আমরা নতুন কাজকেও, মৌলিক সৃষ্টিশীলতারও পক্ষে। অনেক সমসাময়িক কবিগণ এবং অনেক আনকোরা নতুনরাও দৈত্যদলের গানের জন্য লিখছে। এদের অনেকের রয়েছে নিজস্ব ছদ্মনাম।

ইপ্রকাশ আর্টস: লিরিকসে কোন কোন বিষয়গুলো প্রায়োরিটি দেয়া হয়?

দৈত্যদলের গান সব বিষয় নিয়েই গান করতে চায়, যদি তা প্রাণে বাজে। এর বিষয় বস্তুর কোন নির্দিষ্টতা নাই। এর বিষয় বস্তু হতে পারে প্রেম, অপ্রেম, কাম, বিরহ, হতাশা, স্বপ্ন, বিপ্লব, বৈরাগ্য, সামাজিক বা রাজনৈতিক। এরা করতে চায় চার ধরনের গান। ইনডিজেনাস ফোক বা চিরায়ত লোক সংগীত, তা পৃথিবীর যে প্রান্তরই হোক। করতে চায় অনুভূতির সাথে মিশে যে সুরই আসুক তার প্রকাশ। চিরায়ত বর্তমান ও ক্লাসিক। সুরে এরা ভার্সেটালিটি পছন্দ করে। সাইকোডেলিক থেকে মেটাল সবই করতে চায়। এরা তৈরী করতে চায় রমণ সংগীত এবং এরা মৃতদের জন্য গান গায়।

/বুনো মাতলামি / 

বাতাসে বোনা  ছিল, 
বুনো প্রেম, বুনো হাওয়া
বুনো মাতলামি –বুনো মাতলামি 

আশ্রমে ফেলে আসা প্রিয় গাছটি,
ডাকছে আমায়, ডাকছে আমায়, ডাকছে আমায়

বসন্তে বসন্তে তুমি -মেলে ধরো,
বুনো মাতলামি..

বইছে প্রলোভন,
রক্তের হাওয়া- রুপালি প্রণয়

বাঁশিতে সুর দূর বহূদূর
মেঘালয় আদরে মেশে

বসন্তে বসন্তে তুমি -মেলে ধরো,
বুনো মাতলামি.. বুনো মাতলামি.. বুনো মাতলামি

ছায়া মেশে ছায়ায়
পাখি খোলে পাখা
গাছ খোলে পাতা
চোখ মেলি চোখে

বুনো হাওয়া,
বুনো রাত, 
ফুটে আছে
মাতাল বসন্তে

ইপ্রকাশ আর্টস: 'দৈত্যদলের গান'র আনপ্লাগড ওপেনিং মিউজিক্যাল শো'টির নাম রেখেছেন 'শাদা শাদা ফুলরে বন্ধু...শাদা শাদা ফুল'। এমন নাম কেন রেখেছেন আপনারা?

আমাদের প্রথম গানটি যেহেতু ‘শবযাত্রা’ এবং শেষে আমরা গাইতে থাকি শাদা শাদা ফুলরে বন্ধু,
শাদা শাদা ফুলরে বন্ধু। তাই সকলে মিলে ঠিক করা হয় ‘দৈত্যদলের গান’র আনপ্লাগড ওপেনিং মিউজিক্যাল শো’টির নাম ‘শাদা শাদা ফুলরে বন্ধু...শাদা শাদা ফুল’ হোক।

ইপ্রকাশ আর্টস: ওই প্রোগ্রামে আপনারা প্রথমে ‘শবযাত্রা’ নামের গানটির হামিং দিয়ে শুরু করেন, মনে হচ্ছে ব্যাপারটা প্ল্যান করা। পরে আপনারা ওই গানটা গেয়েই শেষ করেন। এই বিষয়ে বলুন।

হ্যাঁ, এটা অনেকটা সিগনেচার টোনের মতো। এটা আমাদের প্রথম গান, একটি হামিং থেকেই এই গানের দলটির শুরু। গানটির নাম ‘শবযাত্রা’।

ইপ্রকাশ আর্টস: কেন আপনারা ‘দৈত্যদলের গান’ দলের সাথে যুক্ত হয়েছেন? আপনাদের ভাবনা কি? 

রাজন চৌধুরী: মিউজিকটা আসলে আমি করতে চাই।

রাজীব খান পাঠান বাপ্পী: ক্রিয়েশনটা ইম্পোরট্যান্ট। অনেক কবির দল, গান গুলিতে একটা এনার্জি আছে, করতে ভালো লাগছে তাই।

তানভীর রাসেল: একজন ডিপ্রেসড অচেনা গিটারিস্টের আত্মা তাড়িত করে, মৃতদের জন্য গান গাইতে ভালোবাসি, জানি তারা শুনতে পায়।

ইদ্রিছ কাজল: গানটা পিউর আবেগ। দৈত্যদলের গানটা ওউন করি আমি। 

ইপ্রকাশ আর্টস: ‘দৈত্যদলের গান’ নিয়ে আপনাদের ভবিষ্যত প্ল্যান কি?

কে জানে ভবিষ্যত কি। গাইবে আথবা ঘুমিয়ে গিয়ে ফের জেগে উঠবে দৈত্যরা এমনি। এখন পর্যন্ত আমরা দৈত্যদলের গানে তাদের পরিচয় দেয়া গেল।

/কালা কালা জানোয়ার/

সময় হলো বিভ্রান্ত 
কালা কালা জানোয়ার 
হেঁটে যায় শুধু লম্বা পায়ে 
ফিরেও দেখেনা আর 
একটি শকুন ঠোক দিয়ে খায় খণ্ডিত মৃতদেহ 
একটি শকুন ভালবাসে শুধু জীবনের সন্দেহ 

কালা কালা জানোয়ার 
কালা কালা জানোয়ার 
পেছনে পেছনে গর্জন হাটে 
মুখভরা তার হাসি 
জীবনের মাঠে ঘটে যেতে থাকে 
মরণের তল্লাশী 
একটি শকুন ঠোক দিয়ে খায় খণ্ডিত মৃতদেহ 
একটি শকুন ভালবাসে শুধু জীবনের সন্দেহ

কালা কালা জানোয়ার 
কালা কালা জানোয়ার

 


Arts Feature Desk

ফিচার