মুক্তিযুদ্ধের অনুধ্যান

img

আমরা কিভাবে নয় মাসে পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করলাম ? পাকিস্তান সেনাবাহিনী নিয়ে যতই গল্পকথা প্রচলিত থাক না কেন, তারা কোন অপ্রতিরোধ্য শত্রু  ছিল না।  এটি ছিল তৃতীয় বিশ্বের একটি বাহিনী যার শীর্ষ কর্মকর্তারা ছিল অযোগ্য । অস্ত্র নিয়ে নিজ দেশের নিরস্ত্র জনগনের উপর ঝাঁপিয়ে পরে আতঙ্কিত করে তোলা কোনভাবে সাহসিকতা বা আত্মত্যাগের নজীর হতে পারে না।  এমনকি তৎকালীন দেশের বিবাদমান রাজনৈতিক অস্থিরতার সমাধানের পথও ছিল না।  পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর কোন অফিসার পূর্ব পাকিস্তানে গনহত্যা বা পরিকল্পিত ধর্ষণ চালানোর সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অসম্মতি জানায়নি, যা জেনেভা কনভেনশন এবং জাতি সংঘের মানবাধিকার ঘোষণার সম্পূর্ণ পরিপন্থী।  যদিও জাতিসংঘের সব সদস্য রাষ্ট্র এই নিষেধাজ্ঞা মানতে বাধ্য। এ থেকে স্পষ্টত বোঝা যায়, পাকিস্তানী সেনাবাহিনী কোনোভাবে পেশাদার ছিল না। পূর্ব পাকিস্তানে তারা খুন, লুটপাট ও ধর্ষণসহ নানা নৃশংস কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়ে নিজেদের একেবারে নিম্নপর্যায়ে নামিয়ে এনেছিল।  এধরনের সেনাবাহিনী কখনো তার মূল দায়িত্ব পালন করতে পারে না।     

আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট সম্বন্ধে ইয়াহিয়া এবং তার সরকারের বিবেচনা ছিল ভ্রান্ত ।  তারা স্নায়ুযুদ্ধ সমকালীন  মিত্রশক্তির উপর অনেক বেশি ভরসা করতে চেয়েছিল  (SEATO এবং CENTO ) এবং সেই মনোভাব বৃদ্ধি পায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চীনের সুসম্পর্ক স্থাপনের সহযোগিতা করায়, যা ছিল মুলত পাকিস্তানের দালালীতে টিকিয়ে রাখা একটি চায়নিজ উদ্যোগ ।  যুক্তরাষ্ট্রের নিক্সন প্রশাসন বারবার বলে এসেছিলো পূর্ব পাকিস্তানের সমস্যা একটি আভ্যন্তরীণ বিষয় এবং সে অনুযায়ী যতটুকু সম্ভব যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানকে সহায়তা দিয়ে গেছে। গনহত্যা এবং গনধর্ষণের এতো বড় মানবিক বিপর্যয়ের  প্রেক্ষাপটে এটি ছিল সহানভুতি বিবর্জিত একপ্রকার যুক্তিহীন খোঁড়া অবস্থান।পাকিস্তানের প্রতি এই সাহায্য বিষয়ে আমেরিকার সাধারণ জনগণকে ব্যাখা করার মতো কোন নৈতিক ভিত্তি নিক্সন প্রশাসনের ছিলো না । এছাড়া, ১৯৭২ সাল ছিল আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচন আর মার্কিন সেনাবাহিনীকে ভিয়েতনাম যুদ্ধ শেষ হওয়ার আগে প্রেসিডেন্ট নিক্সন আরেকটি এশীয় সংকটে জড়াতে পারতো না।  সেই সময় সকল মার্কিন যুবকদের সেনাবাহিনীতে বাধ্যতামূলক যোগদান করার বিধান ছিল।  দীর্ঘ ভিয়েতনাম যুদ্ধে বিপুল মার্কিন সেনা নিহত হবার ক্ষত'টি নিক্সন পুষিয়ে উঠতে পারেনি। অন্যদিকে মার্কিন জনগণের মতামত ছিল ভিয়েতনাম যুদ্ধের বিরুদ্ধে।  ফলে পাকিস্তানকে নির্লজ্জ ভাবে সরাসরি কোন সামরিক সহায়তা দেয়া তার আপাত বন্ধু রাষ্ট্র গুলোর পক্ষে সম্ভব ছিলো না।    

পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিপক্ষে গন অভ্যুত্থান বা গেরিলা যুদ্ধ পরিচালনার করার কোন পূর্ব প্রস্তুতি আওয়ামী লীগের ছিল না।  মার্চের ইয়াহিয়া, মুজিব এবং ভুট্টোর আলোচনা ছিল এক প্রকার প্রহসন।  এই আলোচনার মূল উদ্দেশ্য ছিল পশ্চিম পাকিস্তান থেকে পূর্ব পাকিস্তানে সেনা সংখ্যা বৃদ্ধি করার সময় বের করা। সেই সময় বেশ কয়েকজন বাঙ্গালী সেনা কর্মকর্তা আওয়ামী লীগের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে আওয়ামী লীগ থেকে কাঙ্ক্ষিত সাড়া পাওয়া যায়নি।  হয়তো কোন খেয়ালী প্রত্যাশা ছিল যে বাঙ্গালী সৈনিক ও অফিসাররা স্বয়ংক্রিয়ভাবে পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করবেন এবং একটি সংগঠিত প্রতিরোধ গড়ে তুলবেন। যদি তা করতেও হতো, তার জন্য পর্যাপ্ত পরিকল্পনা ও  সমন্বয়ের প্রয়োজন ছিল।  এই পরিকল্পনার অভাব ও সমন্বয়হীনতার কারনে আমাদের অনেক বাঙ্গালী সৈনিককে প্রাণ দিতে হয়েছিলো ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট সেন্টারে এবং এই রেজিমেন্টের প্রথম ও তৃতীয় ব্যাটেলিয়নে।  একই কারণে ঢাকার পিলখানা ও রাজারবাগ পুলিশ ছাউনিতে অনেক সৈনিক ও পুলিশ সদস্যদের প্রাণ দিতে হয়েছে। শুধু শ্রী চিত্তরঞ্জন সুতার'কে কলকাতা পাঠানো ছিল তৎকালীন আওয়ামী লীগের একমাত্র উদ্যোগ।  শ্রী সুতার সেখানে কি করেছিলেন তা বোঝা  মুশকিল । এমনকি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব যখন ৭ই মার্চ  ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলার ডাক দিলেন, তখনো আওয়ামী লীগের শীর্ষ স্থানীয় নেতৃবর্গের সাথে চিত্তরঞ্জন সুত্রের কোন যোগাযোগ ছিল না। এমনকি মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার পরেও তাজউদ্দিন আহমেদ এবং বিএসএফ মিলে সুতার'কে কলকাতায় খুঁজে পায়নি।  এতেই বোঝা যায় যুদ্ধের জন্য আওয়ামী লীগের কোন প্রস্তুতি ছিল না।  তথাপি পরিকল্পনা ও প্রস্তুতির এই ঘাটতি জনগণের কাছে সামগ্রিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ করে তোলে বঙ্গবন্ধুর একমাত্র আহ্বান - "ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোল "। 

যুদ্ধে ভারতীয় সহযোগিতা ছাড়া আমাদের ভাগ্যে কি ঘটতে পারতো ? নিঃসন্দেহে বলা যায়, ভারতের সহযোগিতা ছাড়া পাকিস্তানীরা নয়মাসে আত্মসমর্পণ করতো না। একটি বিপ্লবী গেরিলা যুদ্ধকে সাফল্যের সাথে সম্পন্ন করার জন্য সার্বিক প্রয়োজনীয় উপাদান সমূহ ভারত আমাদের দিয়েছে।  ভারত আমাদের আশ্রয় দিয়েছে, মুক্তিবাহিনীকে দিয়েছে প্রশিক্ষণ  অস্ত্র আর প্রয়োজনীয় যুদ্ধসামগ্রী সরবরাহ করেছে ।  এমনকি গেরিলা যুদ্ধের শেষ অধ্যায়ে ভারতীয় সেনা বাহিনী নিয়মতান্ত্রিক যুদ্ধ করে শত্রুকে পুনঃসংগঠিত হবার সুযোগ দেয় নাই, যা পাকিস্তানীদের আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য করে।  ভারতের এই সহায়তার  বিষয়টি একেবারে যে নিঃস্বার্থ ছিল বলা যাবে না।  বাংলাদেশের স্বাধীনতার মাধ্যমে ভারত তার পূর্বসীমান্তে একজন বৈরী প্রতিবেশীর বিপরীতে বন্ধু রাষ্ট্র পাবে ।  নাগাল্যানড ও মিজোরামে বিরাজমান বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগ্রামে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর গোপন উস্কানি দেয়া বন্ধ হবে। এই প্রক্রিয়ায়, ভারতের অন্যান্য অঞ্চলের স্বাধিকার আন্দোলন সমূহকে দমন করা সম্ভব হবে।  তাই বাংলাদেশের জন্ম ভারতের জন্য কৌশলগতভাবে ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। পরিশেষে, পূর্ব অঞ্চলের ভাঙ্গনের মধ্য দিয়ে  জিন্নাহ'র দ্বিজাতি তত্ত্ব আক্ষরিক অর্থে ভুল প্রমানিত হল।  ধর্ম কখনো কোন জাতি গঠনের একক স্তম্ভ হতে পারে না।  পারস্পরিক আদর্শ, আকাঙ্ক্ষা, অধিকার, ভাষা ও সংস্কৃতি অবশ্যই একটি জাতির জন্য প্রয়োজনীয়।  এছাড়া, বাংলাদেশের জন্মের মাধ্যমে অর্থনৈতিকভাবেও ভারত লাভবান হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করেছিল।  কারন ছিল, বাংলাদেশ ভারতীয় পণ্য ও সেবার জন্য একটি বড় বাজারে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা ছিল।
    
মুক্তিযুদ্ধের পুরো সময়টাতে, আওয়ামীলীগ আভ্যন্তরীণ নানা রাজনৈতিক টানাপোড়েনে জর্জরিত ছিল। শেখ মুজিবর রহমানের অনুপস্থিতিতে, অন্য কোন নেতার পক্ষে তাঁর সমপর্যায়ের সার্বজনীন শ্রদ্ধা বা আনুগত্য আদায় করা সম্ভব ছিল না। আওয়ামীলীগের যে সকল নেতারা যুদ্ধকালীন সরকারের বিরোধিতা করেছিলেন, তারা এমন একটা ভাব নিয়ে নিজেদের গুটিয়ে নিলেন যেন ওই সংকীর্ণ সিদ্ধান্তটি ( প্রাদেশিক সরকার গঠনের ) মহান নেতার জন্য কল্যাণকর হতো। আসলে বেশির ভাগ নেতাই কঠিন আত্মত্যাগ করতে রাজি ছিলেন না, যা জনগণের প্রত্যাশার পরিপন্থী।  সবই চলছিল এড-হক ভিত্তিতে।  যদি তাজউদ্দীন আহমেদ সরকার গঠনের দায়িত্বটি না নিতেন, তাহলে  শেষপর্যন্ত কি হতো তা অনুধাবন করা মুশকিল। দলের তরুন নেতাদের বিরোধিতা সত্ত্বেও, তাজউদ্দীন সাহেব গনতান্ত্রিকভাবে তাঁর কর্তব্য পালন করে গেছেন। আওয়ামীলীগের সভাগুলোতে তিনি তরুন নেতাকর্মীদের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করেছেন, যুক্তি-তর্ক করে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।  যারা তাঁর বিরোধিতা করেছেন তাদের ষড়যন্ত্র করে  নির্মূল করার চেষ্টা করেন নি । যদিও সেই সকল বিরোধী নেতৃবৃন্দ এক পর্যায়ে তাজউদ্দীন আহমেদের প্রাননাশের চেষ্টা করেছিলেন। আবেগায়িত বা রাজনৈতিকভাবে ভেঙ্গে না পড়ে, তাজউদ্দীন আহমেদ তাঁর মূল লক্ষ্যে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ ছিলেন। এখানে বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, ইন্দিরা গান্ধী এবং তাঁর শীর্ষ উপদেষ্টাদের সাথে তাজউদ্দীন আহমেদের ব্যক্তিগত সম্পর্কের কারনে দীর্ঘ সময়ে দু'দেশের মধ্যকার নানা বৈরি ইস্যুকে সহজভাবে সমাধান করা সম্ভব হয়েছিল। 

আমাদের মুক্তিবাহিনী ছিল সীমাবদ্ধ সামর্থ্যের জোড়াতালি লাগানো একটি বাহিনী ।  সামান্য যুদ্ধাস্ত্র, সীমিত দক্ষতা, অপরিণত নেতৃত্ব এসবই ছিল আমাদের আপাত দৃশ্যমান অক্ষমতা । এতোসব সীমাবদ্ধতা নিয়ে আমরা কি করে সফল হলাম ? মুক্তি বাহিনী সফল হয়েছিল বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের সহযোগিতা ও যোদ্ধাদের দৃঢ় প্রত্যয়ের কারনে ।  ডিসেম্বরে মুক্তি বাহিনীর সংখ্যা ছিল প্রায় এক লক্ষের কাছাকাছি ; এর মাঝে চার থেকে পাঁচ হাজার ছিল বাঙ্গালী সেনা যারা পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর সাথে বিদ্রোহ ও সম্পর্ক ছিন্ন করে এসেছিল।  আরও সাত থেকে আট হাজার ছিল সাবেক ইপিআর (ইস্ট পাকিস্তান রেজিমেন্ট) এর সদস্য ।  আর বাকি সবাই ছিল স্বেচ্ছাকর্মী যোদ্ধা । পাকিস্তান আমলে সরকারবিরোধী নানা আন্দোলনে বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের ছাত্ররা ভূয়সী ভূমিকা রাখলেও, যুদ্ধের সময় তারা প্রাননাশের সংশয় থাকতে পারে এমন ভূমিকা নিতে প্রস্তুত ছিল না ।  তারা ছিল 'বুদ্ধিজীবী'।  হিসেব মতে, মুক্তিবাহিনীতে কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রের সংখ্যা ছিল  তিন থেকে চার হাজার।  সরাসরি যুদ্ধ করেছে তারও কম । বাংলাদেশের গ্রাম গঞ্জের গরিব কৃষকদের সন্তানরাই সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ ও যুদ্ধ করেছিল ।  এই ছেলেরাই পুরো সময়টা নিরবিচ্ছিন্নভাবে লড়াই করেছে।  নানা ক্ষেত্রে তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়েছে এবং দেশের জন্য স্বেচ্ছায় প্রান দিয়েছে । পাকিস্তানীদের ভয়াবহ আক্রমণের মূল্য তারাই সবচেয়ে বেশি দিয়েছে।  কোন পরিবার থেকে কেউ  মুক্তিবাহিনীতে যোগ দিয়েছে, এমন তথ্য জানতে পারলে পাকিস্তানী সেনাবাহিনী তাদের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দিত আর পরিবারের সদস্যদের হত্যা করতো । এই প্রান্তিক গ্রামের মানুষগুলো কেবল যুদ্ধই করেনি, মুক্তি বাহিনীর যেকোনো প্রয়োজনে সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছে ।  তাঁরা মুক্তিবাহিনীকে আশ্রয় দিয়েছে, গাইড হিসেবে পথ দেখিয়েছে, প্রানের ঝুঁকি নিয়ে তথ্য সরবরাহ করেছে, ট্রেঞ্চ খননে আর প্রতিবন্ধকতা উত্তরণে সাহায্য করেছে, ক্ষুধার্ত যোদ্ধাদের খাবারও পানি দিয়েছে যখন তাদের নিজেদের পরিবারের জন্য পর্যাপ্ত খাদ্যের সংস্থান ছিল না ।  এমনকি পাকিস্তানী আর্মিদের পুঁতে রাখা মাইন ও ফাঁদ দেখিয়ে দিয়েছে মুক্তিবাহিনীকে ।  বাংলাদেশের স্বাধীনতার সত্যিকারের বীর হলো এই সাধারণ মানুষগুলো ।  এই আত্মত্যাগের বিনিময়ে তাঁদের কোন পুরস্কারের প্রত্যাশা ছিল না।  তাদের একমাত্র চাওয়া ছিল প্রিয় মাতৃভূমির স্বাধীনতা।

[Bittersweet Victory (A Freedom Fighter's tale) by A. Qayyum Khan.  The University Press Limited - থেকে অনূদিত ]


Rafiqul Anowar Russell

রফিকুল আনোয়ার রাসেল

চিত্রনাট্যকার ও চলচ্চিত্র নির্মাতা

রফিকুল আনোয়ার রাসেল ১৯৯৮ সাল থেকে চলচ্চিত্র সংসদ চর্চায় তার সম্পৃক্ত। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় চলচ্চিত্র সংসদের প্রতিষ্ঠাতাদের অন্যতম, রাসেল ছাত্র থাকা অবস্থা থেকে বিভিন্ন ভূমিকায় চলচ্চিত্র চর্চায় সংযুক্ত। কখনো ফিচার লেখক, অভিনয়, চিত্রগ্রহণ, চিত্রনাট্য, কখনো প্রযোজনায় তিনি সংযুক্ত রেখেছেন নিজেকে। পরবর্তী সময়ে অডিও ভিশুয়াল প্রতিষ্ঠান ‘অযান্ত্রিক’ গড়ে তুলেছিলেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যের এম এ নির্মাতা রাসেলের আত্মপ্রকাশ ২০০৮ সালে, ১১ মিনিটের শর্ট ফিকশন ‘হাইজ্যাক’ পরিচালনার মধ্য দিয়ে। এরপর নিজের চলচ্চিত্র নির্মাণ প্রতিষ্ঠান এ এন ব্রাদার্স প্রোডাকশনস থেকে ২০১২ সালে তিনি তৈরি করেন আরেকটি ছোট দৈর্ঘ্যের কাহিনীচিত্র ১১ মিনিটের ‘ফান।’ ২০১৪ সালে ‘দ্য অ্যাডভাঞ্চারার’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে রফিকুল আনোয়ার রাসেল জাতীয় পর্যায়ে পরিচিতি পান। দেশ ব্যাপী নানা চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত এই স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রটি ২০১৫ সালের ‘মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ভিত্তিক প্রতিযোগিতা - শর্টফিল্ম’ বিভাগে ১ম স্থান লাভ করে। ২০১৫ সালে ইমপ্রেস টেলিফিল্ম এর সামুরাই মারুফ পরিচালিত পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘মেসিডোনা’ চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্য রচনা’র মধ্য দিয়ে পেশাদার চিত্রনাট্যকার হিসেবে কাজ শুরু করেন। এছাড়া তিনি গল্প, ফিচার, ফিল্ম রিভিউ বা চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট যেকোন বিষয়ে গবেষণা ও লেখালিখির কাজ করে থাকেন। ২০১৪ সাল থেকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন বিষয়ে খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে যোগ দিয়েছেন। তিনি বর্তমানে চট্টগ্রামে বাস করেন।