শক ডকট্রিন: গবেষণা, তথ্যচিত্র ও বাস্তবতা

img

বিশ্বায়ন বিরোধী আন্দোলনকর্মী ও সাংবাদিক নাওমি ক্লাইন, গত বিংশ শতকের উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক ঘটনা প্রবাহ ও মুক্ত বাজার অর্থনৈতিক ধারা'র উপর  গবেষণা গ্রন্থ 'The Shock Doctrine: The Rise of Disaster Capitalism' প্রকাশ করেন ২০০৭ সালে। এর বিষয়বস্তু, মতামত ও দৃষ্টিভঙ্গি'কে অবলম্বন করে দুই তরুণ ব্রিটিশ পরিচালক মাইকেল উইন্টারবোটম এবং ম্যাট হোয়াইটক্রস একই নামে 'শক ডকট্রিনঃ সর্বগ্রাসী পুঁজিবাদের উত্থান'' তথ্যচিত্রটি নির্মাণ করেন ২০০৯ সালে।

নাওমি ক্লাইন নিজেই তথ্যচিত্রটি'র চিত্রনাট্য ও ধারা বর্ণনা তৈরি করেন । বিষয়বস্তুর আলোকে তিনি ব্যাখা করেন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরবর্তীতে কিভাবে পুঁজিবাদ পূর্বের গণতান্ত্রিক চরিত্র থেকে রাতারাতি সর্বগ্রাসী পুঁজিবাদে পরিবর্তিত হয়ে গেছে। মার্কিন সরকার, প্রশাসন ও কর্পোরেট বৃহৎ ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানগুলো যৌথভাবে, রাজনৈতিক-সামাজিক-অর্থনৈতিক ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে পৃথিবীব্যাপী একক বাজার  অর্থনীতি ও রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন প্রতিষ্ঠিত করেছে। আর এই সর্বগ্রাসী পুঁজিবাদী ষড়যন্ত্রের মূল তাত্ত্বিক ছিলেন মুক্ত বাজার অর্থনীতি'র অন্যতম প্রবক্তা সমালোচিত মার্কিন অর্থনীতিবিদ মিলটন ফ্রিডম্যান ( ১৯১২-২০০৭)। মিলটন ফ্রিডম্যান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সহ পৃথিবীর অনেক দেশের অর্থনৈতিক ইতিহাসের জন্য এক কালো অধ্যায়। ক্ষমতাসীন'রা আঙ্কেল মিলটন প্রদর্শিত অর্থনৈতিক ধারা'র মাধ্যমে রাষ্ট্র কাঠামো ও অর্থনৈতিক শক্তির উপর নিরুঙ্কুশ নিয়ন্ত্রন তৈরি করতেন। জনগনের যাবতীয় আকাঙ্খা ও অধিকার লুণ্ঠিত হতো, কর্মহীন ও অস্থির পরিবেশে বেঁচে থাকার লড়াইয়ে জনগণ দিশেহারা থাকতো সর্বক্ষণ। রাষ্ট্র প্রতিশ্রুত জনগণের উপর সার্বিক নিরাপত্তা সরিয়ে দিয়ে (শাসকরা সুকৌশলে) উল্টো সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ভাবে জনগণকে নিরাপত্তাহীন করে রাখে। আর এই নিরাপত্তাহীন অবস্থায় সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী না হয়ে, বরং চরমভাবে অনুগত করে তোলার জন্য আয়োজন চলে নানা রকমের শক থেরাপি'র। নাওমি ক্লাইন, রাষ্ট্র ও শাসক পরিচালিত এই শক থেরাপি'র নাম দিয়েছেন 'শক ডকট্রিন'। তিনি ব্যাখা করেন, এই আক্রমণাত্মক  পুঁজিবাদ কিভাবে নানা মানব সৃষ্ট যুদ্ধ, আগ্রাসন, নিপীড়ন, সেনাঅভ্যুত্থান, সন্ত্রাস ও প্রকৃতি সৃষ্ট দুর্যোগ,মহামারী, জলোচ্ছ্বাস, ভুমিকম্পসহ নানা আঘাতে বিধ্বস্ত মানুষের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে শাসক ও তাদের মিত্র ধনী ব্যবসায়ীদের অফুরন্ত মুনাফা লাভের দরজা খুলে দেন। ষাটের দশক থেকে এই অর্থনৈতিক-রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র পৃথিবীর নানা দেশকে ও দেশের জনগণকে যেমন শোষণ নির্যাতন করে চলেছে, তেমনি দেশগুলোর ঘরোয়া রাজনীতিতেও এই তত্ত্বের প্রয়োগে লক্ষ লক্ষ মানুষকে নিপীড়ন ও অধিকার বঞ্চিত করেছে নিজেদের ব্যবসা ও  ক্ষমতা'র লোভে।

শক ডকট্রিন

মি ক্লাইন বলেন, শক ডকট্রিন-এর প্রয়োগবাদীরা স্বাভাবিক ভাবে একটি 'প্রভাবমুক্ত ক্ষেত্র' (blank slate)  তৈরি করতে চান, যেখানে তারা নিজেদের লাভের জন্য একটি অবাধ মুক্তবাজার অর্থনৈতিক পরিবেশ তৈরি করবে । ফলে, বিরাজমান অর্থনৈতিক ব্যবস্থাটিকে  নিশ্চিহ্ন করে ফেলার জন্য সেখানে অবশ্যই একটি চরম সংকটময় পরিস্থিতি তৈরি হতে হবে নতুবা করতে হবে।  নাওমি দেখান, ঠিক যেভাবে একজন মানসিকভাবে অসুস্থ রোগী'র উপর ইলেকট্রিক শক থেরাপি' প্রয়োগ করা হয়, তেমনি একইভাবে এই অর্থনৈতিক শক থেরাপি প্রয়োগ করা হয় একটি দেশ বা জাতি'র উপর আরও ভয়াবহ রূপে। ১৯৫০ সের দশকে মানসিক চিকিৎসা ক্ষেত্রে শক থেরাপি আবিস্কারের পরবর্তী সময়ে মনস্তাত্ত্বিক ইউওেন ক্যামেরন ও সিআইএ'র যৌথ উদ্যোগে গোপনীয়তার সাথে শুরু হয় একটি নিরীক্ষামূলক গবেষণা।  এই গবেষণায় দেখা হয় শক থেরাপি'র বিভিন্ন মাত্রার ও পদ্ধতি'র মাধ্যমে একজন স্বাভাবিক চিন্তাশীল মানুষকে একবারে অনুভূতিহীন, স্মৃতিহীন এবং চিন্তাহীন করে দেয়া সম্ভব। যে কিনা পরবর্তীতে একটি নতুন ব্যক্তিত্বের পরিচয়ে অতীতস্মৃতি বিহীন জীবন্ত লাশে পরিণত হয়। এই ক্ষেত্রে আসে সিআইএ কর্তৃক প্রস্তুতকৃত একটি কার্যকর 'নির্যাতন বিধিমালা' (Kubark Torture Manuel)  যা এখনো যুক্তরাষ্ট্রসহ তাদের মিত্র দেশগুলোর শাসকেরা শত্রু জনগণের উপর ব্যবহার করে থাকে।

২০০১ সালের ১১ সেপেম্বর নিউইয়র্ক টুইন টাওয়ারে হামলা 

শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতিবিদ মিলটন ফ্রিডম্যান জানতেন, চলমান অর্থনৈতিক পদ্ধতিতে স্বাভাবিক উপায়ে 'মুক্ত বাজার অর্থনীতি' (যা ছিল এক প্রকার বিশাল জনকল্যাণকর অর্থনৈতিক ব্যবস্থা'র বিপরীত) কখনো স্বাভাবিক এবং গণতান্ত্রিক ভাবে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। তার জন্য প্রয়োজন চরম সংকটময় পরিস্থিতি। তিনি তাই শক থেরাপি'কে অর্থনৈতিক কাঠামোর আদলে দাঁড় করিয়ে নিজেকে একজন অর্থনীতির ডাক্তার বলে প্রচার করলেন। তাঁর মতে,"Only a crisis actual or perceived produces real change."

'শক ডকট্রিন' এর মাধ্যমে দক্ষিন আমেরিকার রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পট পরিবর্তনের প্রথম সফল পরীক্ষাটি করা হয় চিলি'তে। মিলটন ফ্রিডম্যানের অনুসারী ছাত্র'রা (যাদের'শিকাগো বয়েজ' বলা হতো) এই ভুমিকা বেশ সফলতার সাথে সম্পন্ন করেন। চিলিতে ১৯৭০ সালে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচনে জয়লাভ করে জাতীয়তাবাদী নেতা  'সালভাদোর আলেন্দে' প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। তাঁর রাষ্ট্রীয় করনের নীতিতে ক্ষিপ্ত যুক্তরাষ্ট্রের নিক্সন সরকারের নির্দেশে এবং সিআইএ-মিলটন ফ্রিডম্যানের প্রদর্শিত রাস্তায় 'শিকাগো বয়েজ' দের নেতৃত্বে চিলিতে সামাজিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি'র একটি নীল নকশা প্রণীত হয়। ফলে দেশের উদ্ভূত চরম রাজনৈতিক, সামাজিক আর অর্থনৈতিক অস্থিরতার সুযোগে ১৯৭৩ সালে প্রেসিডেন্ট আলেন্দে'কে হত্যা করে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করেন জেনারেল পিনোচেট । সেনা বাহিনীর তীব্র সামরিক আক্রমনে চিলিবাসী সন্ত্রস্ত হয়ে পড়েন। খুন, হত্যা, ধর্ষণ, গুম – সব মিলিয়ে দেশে সৃষ্টি করা হয় ত্রাসের রাজত্ব। চলমান অর্থনৈতিক ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়ে। পিনোচেট কর্তৃক জনগণের উপর চালু হল রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা ও অধিকার বঞ্চিত নতুন মুক্ত বাজার অর্থনৈতিক ব্যবস্থা । সাধারন মানুষ দরিদ্র হয়ে পড়ে, আর সেনা সমর্থিতরা  রাতারাতি হয়ে গেলো ধনী থেকে আরও ধনী।
চিলি'র সফল পরীক্ষা শেষে শাসকদের কাছে জনগণের উপর শোষণ নিপীড়নেরর কৌশল হিসেবে মিলটন ফ্রিডম্যানের অর্থনৈতিক ধারা জনপ্রিয় হয়ে উঠলো। 'শিকাগো বয়েজ' এর  মিলটন অনুসারীরা দক্ষিন আমেরিকার অন্যান্য রাষ্ট্রগুলোতে এই পলিসি নিতে সাহায্য করলো। ১৯৭৬ আর্জেন্টিনায় সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসে জেনারেল ভিদেইলা 'শিকাগো বয়েজ'দের সাহায্যে নতুন অর্থনৈতিক ব্যবস্থা চালু করলেন এবং একবছরের মধ্যে মুদ্রার মান কমে গেলো, বেকারত্ব , ফ্যাক্টরি বন্ধ আর দরিদ্রতার হার বেড়ে গেলে চরম ভাবে।

১৯৭৯ সালে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী হলেন মারগারেট থ্যাচার। এর পরের বছর রোনালড রিগান যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেন। মিলটন ফ্রিডম্যান সক্রিয় হলেন স্থানীয় অর্থনীতি'তে। মার্কিন ও ব্রিটিশ দুই অর্থনৈতিক জগতে তার প্রভাব বিস্তৃত হল। গ্রেট ব্রিটেনে থ্যাচার যাবতীয় সরকারী ভর্তুকি বন্ধ করলেন, ব্যাক্তি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান উৎসাহিত করলেন। সরকারী শিল্প কারখানাগুলোকে ব্যাক্তিমালিকানা করণে উদ্যোগী হলেন। কর্মহীনতা ও বেকারত্ব বেড়ে যাওয়ায় দেশে সংঘর্ষ,দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়লো কিন্তু কিছুই থ্যাচার'কে টলাতে পারল না। আন্দোলন, ধর্মঘট ইত্যাদির বিরুদ্ধে সরকারের আপোষহীন দমন পীড়নে শেষ পর্যন্ত শ্রমিক ও গণ মানুষের পরাজয় ঘটে। মারগারেট থ্যাচার ব্যাক্তিমালিকানাকরণ'কে উৎসাহিত করতে দেশের ষ্টীল, পানি, বিদ্যুৎ, গ্যাস, টেলিফোনে, তেলসহ একে একে সব সরকার মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ব্যাক্তি মালিকানায় বিক্রি করে দিলেন। মিলটন ফ্রিডম্যান শেষ পর্যন্ত স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছিলেন, মারগারেট থ্যাচার এবং রোনালড রিগান-ই মুলত শিকাগো স্কুল উদ্ভাবিত 'মুক্তবাজার অর্থনীতি'কে বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় করে তুলে ছিল।

এবার মুক্ত বাজার অর্থনীতির এই রাজনৈতিক আগ্রাসন নজর দিল পূর্ব ইউরোপের সমাজতান্ত্রিক দেশগুলোর দিকে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে এই দেশগুলো সোভিয়েত সমাজতান্ত্রিক আদর্শে এবং ছত্রছায়ায় সামরিক, সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ভাবে পরিচালিত হচ্ছিল । সেখানে বাক-স্বাধীনতা ও নাগরিক মুক্ত অধিকার ছিল নিয়ন্ত্রিত, যা পশ্চিমা বিশ্বকে নানাভাবে উস্কানি দিতে সুযোগ করে দেয়। নব্বই দশকের শেষের দিকে পোল্যান্ড, রুমানিয়া, পূর্ব জার্মানি সহ সমাজতান্ত্রিক শিবিরের পতন ঘটল।  সমাজতান্ত্রিক বিশ্বের নেতা সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট মিখাইল গরবাচেভ নির্বিকার তাকিয়ে দেখলেন। নানা ঘটনা পরিক্রমা'র মধ্য দিয়ে ১৯৯১ সালে সোভিয়েত প্রজাতন্ত্র বিলুপ্ত হল। নাওমি ক্লেইন সমাজতন্ত্র পরবর্তী ইয়েলতসিনের নেতৃত্বাধীন স্বাধীন ও মুক্ত রাশিয়ার অর্থনৈতিক চিত্র তুলে ধরলেন - যেখানে মুদ্রাস্ফীতি, বেকারত্ব, দুর্ভিক্ষ, দারিদ্রতা, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা সারা দেশকে সার্বক্ষণিক  শক এবং সন্ত্রস্ত পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিল। ঝলমলে আলোকসজ্জার নীচে দুর্নীতিবাজ , পতিতাবৃত্তি ও সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য হল মস্কো। ইয়েলেতসিনের শাসনামলের আট বছরে দেশে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা বেড়ে গেলো ৭২ মিলিয়ন; যদিও একই সময়ে মস্কো'তে পৃথিবীর যেকোনো বড় শহরের চেয়ে অধিক বিলিয়নিয়ার বাস করছিলো।

সেপ্টেম্বর/১১ এর নিউ ইয়র্ক টুইন টাওয়ার হামলা যেন যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ সহ পুরো পৃথিবীকে কল্পনাতীতভাবে বিস্মিত ও স্তম্ভিত করলো। নাওমি ক্লাইন ব্যাখা করেন, ২০০১ সালের ৯/১১ তারিখের হামলা পৃথিবীর ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায় সূচনা করলো। সংঘটিত বিপ্লবের মতো সমগ্র পৃথিবী একটি নতুন বাস্তবতায় প্রবেশ করলো সামগ্রিক ভাবে। আমরা যেন পৃথিবী'র সময়কালের ভাবনা-চিন্তা ও চর্চা'কে ভাগ করে নিলাম। একটি '৯/১১ পূর্ববর্তী' আরেকটি এর পরবর্তী। শুরু হল অশুভের বিরুদ্ধে যুদ্ধ, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ। আর নেতৃত্ব থাকলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হাতে। নিরাপদ থাকতে হলে আমদের নিরাপত্তা ব্যুহ তৈরি করতে হবে। নিরাপত্তা'কে কেন্দ্র করে উন্মোচিত হল বিশাল এক ব্যাবসায়িক আর অর্থনৈতিক বাজার । নিরাপত্তা'র নামে ব্যক্তি মানুষের স্বাধীনতা যে কোনও সময়ে প্রশ্নবিদ্ধ করা সম্ভব। প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ একে "ভাল ও মন্দের এক অনিবার্য লড়াই" হিসেবে ঘোষণা করলেন। সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে এই লড়াইয়ে প্রথম আক্রমণ হল আফগানিস্তানে। ব্যাপক বিধ্বংসী আক্রমণের মাধ্যমে আফগানিস্তানের অবাধ্য তালিবান সরকারকে উচ্ছেদ করে দেশটি নিমেষেই দখল হলো । 'সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সংগ্রামের সবচেয়ে ভালো উপায় হচ্ছে, সারা পৃথিবীতে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা। যেখানেই সন্ত্রাস পাওয়া যাবে, সেখানেই ধ্বংস করে ফেলা' – তাই সন্ত্রাসবাদের তথ্য জানতে বন্দী করা হল হাজার হাজার লোককে । সিআইএ নির্দেশিত 'নির্যাতন বিধিমালা' মোতাবেক তাদের চরম ভাবে নির্যাতন করা হল। সারা পৃথিবীকে যেন জানানো হল, "তোমাদের পরিণতিও এমন হবে, যদি আমাদের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াও"।

রাম্‌স্‌ফেলড জানালেন, "সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ কেবল একজন মানুষের বিপক্ষে নয়, নয় শুধু একটি মাত্র দেশের বিরুদ্ধে"। যুক্তরাষ্ট্র যে সমস্ত দেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে তার তালিকা করতে থাকে। বিশেষ করে যে সমস্ত দেশে বুশ ও মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে মানুষ চরমভাবে সোচ্চার। মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে পাকিস্তান এবং ইরাক-কে লক্ষ্য করা সহজ। অজুহাতও আছে - আফগানিস্তানে নির্বিচারে হত্যার কারণে পাকিস্তানে তালিবানপন্থীরা শক্তিশালী এবং সেখানে একজন স্বৈরশাসকও (পারভেজ মোশাররফ) আছে। আর ইরাকে'র সাদ্দাম হুসেন তো পুরনো শত্রু এবং তিনিও স্বৈরশাসক। তার চেয়েও বড় কথা , ইরাক পৃথিবীর তৃতীয় বৃহত্তম তেল সমৃদ্ধ দেশ। ফলে মার্কিন প্রশাসন সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়াকে নিজেদের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য অপার সম্ভাবনাময় মনে করলো।

Shock and Awe are the actions that create fears, dangers, and destruction that are incomprehensible to the people at large, specific elements/sectors of the threat society, or the leadership. Nature in the form of tornadoes, hurricanes, earthquakes, floods, uncontrolled fires, famine, and disease can endanger Shock and Awe.
-Shock and Awe: Achieving Rapid Dominance, the military doctrine for the U.S. war on Iraq.      

নাওমি ক্লাইন মানুষের উপর তিন ধরনের শক পদ্ধতি আরোপের কথা বলেন – যেগুলো একটি আরেকটিকে সহযোগিতা ও শক্তিশালী করে থাকে। প্রথমত 'যুদ্ধের শক' কিংবা আঘাত, যার প্রতিক্রিয়া হিসেবে তাৎক্ষনিক ভাবে অনুসরণ করে 'অর্থনৈতিক শক' এবং অর্থনৈতিক শক থেকে মানুষ যাতে কোনভাবে প্রতিবাদী হয়ে না উঠতে পারে, তাই বিদ্যমান থাকে তৃতীয় 'শক্তি প্রয়োগের শক' - যাতে নির্যাতন ও শঙ্কা সর্বক্ষণ মানুষকে ভীতি ও আতংকের মাঝে অনুগত করে রাখে। প্রাথমিকভাবে এই তিন প্রকার আঘাতে পুরোপুরি ভেঙ্গে পড়ে ইরাকের জনগণ।

ক্লাইন বলেন, আধুনিক বিশ্বের ইতিহাসে ইরাক যুদ্ধ একটি 'ব্যক্তিগত উদ্যোগের যুদ্ধ' (Privatized War) হিসেবে দেখা হয়েছে। তিনি যুদ্ধের কারনে আমেরিকা প্রশাসন, যুদ্ধবাহিনী,ব্যবসায়ীদের, কর্পোরেট কোম্পানীদের সার্বজনীন লাভের চিত্র তুলে ধরেন। এই বিশাল অর্থ যজ্ঞের হিসেব দেখে যে কারো মনে হতে পারে, বর্তমান অবস্থা যেন মিলটন ফ্রিডম্যান এর মুক্ত বাজার কল্পনাকে হার মানাবে। ফ্রিডম্যান নিজেই বলেছিলেন,

"The only things I would not de-nationalize and that is Armed Forces, the Courts, and some of your Roads and Highway"  

২০০৫ সালের ক্যাটরিনা ঝড়ের তাণ্ডবে জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হল আমেরিকার উপকুলের শহর নিউ অরলিন্স। লক্ষ লক্ষ মানুষ গৃহহীন হয়ে উদ্বাস্তু হয়ে পড়লো। উপকূল অঞ্চল থেকে সরিয়ে নেয়া হল আফ্র-আমেরিকান অধিবাসীদের। নাওমি ক্লাইন ছুটে গিয়ে দেখেন পুরো এলাকা তখনো প্লাবিত। কোনও পুণর্বাসন ব্যবস্থা নেই। আমেরিকার প্রশাসন এই পরিস্থিতিটাকে 'অপার সম্ভবনা'র সুযোগ হিসেবে দেখলেন। ফলে লবিষ্ট গ্রুপের নানা লোকজনের দেন-দরবারে ওয়াশিংটন প্রশাসন মুখরিত হয়ে উঠলো। সরকারও সবকিছু প্রাইভেট সেক্টরকে দিয়ে 'নতুন, নিরাপদ ও পরিচ্ছন্ন' নগরী গড়ে তোলার ষড়যন্ত্র করতে লাগলো। তাদের নানা কথা শুনতে শুনতে শরণার্থী শিবিরে এক বৃদ্ধ ক্ষেপে উঠলেন, "এরা এই সব কি বলছে ! নতুন সুযোগ ! অপার সম্ভাবনা ! এটা আমাদের করুণ পরিণতি ! এরা কি সব অন্ধ হয়ে গেলো ?" পাশে দুটো শিশুসহ একজন মা বললেন, "না, তারা অন্ধ নয় । তারা হল শয়তান, তারা সবকিছু সুন্দর দেখতে পায়"।

ক্লাইন বর্ণনা করেন, শ্রীলংকা সহ নানা দেশে এই ধরনের সুনামি, ভুমিকম্প কিংবা যেকোনো দুর্যোগের ধ্বংসযজ্ঞের পর কর্পোরেট ও প্রশাসনিক মহলগুলো নানা ছলচাতুরীর মাধ্যমে সৈকত সংলগ্ন এলাকাসমূহ প্রাইভেট সেক্টরে নিয়ে আসেন, যাতে সেখানে বিলাশ বহুল হোটেল ও প্রমোদাকেন্দ্র তৈরি করা সম্ভব হয়। ক্ষতিগ্রস্ত অধিবাসীদের তাৎক্ষনিক ভাবে দুর্যোগ পরবর্তী সময়ে নিজ গ্রামে ফিরতে বাধা দেয়া হয়। তারা যাতে নিজেদের দৈনন্দিন অভাব নিয়ে বেতিব্যস্ত থাকে, সেই দিকে তাদের নানা উপায়ে ঠেলে দেয়া হয়।

ষাটের দশকে সিআইএ–ক্যামেরন পরীক্ষাগারে আবিষ্কৃত ইলেকট্রিক শক থেরাপি'র সেই সময়ের শিকার জেনিন তার অভিজ্ঞতা বলেন,

"তারা চেয়েছিল রোগীর মস্তিষ্ক থেকে অতীতের সব স্মৃতি মুছে দিতে, তাই তারা ইলেকট্রিক শক দিয়েছে। সেই মুছে যাওয়া অংশে যাতে তারা নতুন ধারণা প্রতিস্থাপন করতে পারে"। কিন্তু জেনিন তা প্রতিহত করতে পেরেছিলেন।

আশি'র দশকে যাত্রা শুরু করা বিশ্বব্যাপী মুক্ত বাজার অর্থনীতি'র  নানা ঘাত-প্রতিঘাতে নানা দেশের মানুষকে সর্বস্বান্ত হতে হয়েছে, যা এখনো চলেছে। অনিয়ন্ত্রিত বাজার ব্যবস্থাপনার এটি একটি স্বাভাবিক চরিত্র - যা যেকোনো সময় বিধ্বংসী হয়ে হয়ে উঠতে পারে। এক্ষেত্রে একধরনের নিয়মতান্ত্রিক শর্ত লুকিয়ে থাকে, যেকারণে লুট হয়ে যাওয়া জনগোষ্ঠীর শুধু অসহায় নির্বাক তাকিয়ে দেখা ছাড়া আর কোনও উপায় থাকে না। অর্থনীতি'র পরিচালনায় জনগণের শ্রম ও মেধা মূলগতভাবে সম্পৃক্ত থাকলেও তার নিয়ন্ত্রণ থাকে ব্যবসায়ী, ক্ষমতাবান চক্রের হাতে। ফলে যেকোনও সময় অর্থনৈতিক দুর্যোগ তৈরি হতে বাধ্য। যে সমস্ত দুর্যোগে রাতারাতি একদল হয়তো লক্ষকোটি টাকার মালিক বনে গেলো আর লক্ষ লোক হয়ে গেলো নিঃস্ব। এর সবচেয়ে বড় উদাহরণ হল 'শেয়ার বাজার পতন'। নাওমি ক্লাইন গত শতাব্দীর শেষ সময়ে এমন কিছু অর্থনৈতিক দুর্যোগের উদাহরণ দিলেন। যেমনঃ  ১৯৮৭ সালে, ১৯৯২ সালে বিশ্বব্যাপী শেয়ার বাজারের পতন ঘটলো এবং সাধারন মানুষ নিঃস্ব হল। ১৯৯৭ সালে এশিয়ায় শেয়ার বাজার থেকে ১ বছরের মধ্যে লোপাট হয়ে গেলো ৬০০ বিলিয়ন ডলার । এরপর ২০০৮ সালে নিউইয়র্ক শেয়ার মার্কেটের ধ্বস। ওয়াল ষ্ট্রীট এর রাস্তা যেন দুঃস্বপ্নে ভরে উঠলো। কিন্তু এই ধ্বসের পর দেখা গেলো শেয়ার বাজার সংশ্লিষ্ট কিছু কিছু প্রতিষ্ঠান ফুলেফেঁপে বিশাল ধনসম্পদের মালিক হয়ে গেছে। নাওমি বলেন, মূলত পুঁজিতান্ত্রিক রাষ্ট্র এই মুক্তবাজার অর্থনীতি'র মাধ্যমে নানা উপায়ে ট্যাক্স, মুদ্রাস্ফীতি, সংকট, অর্থনৈতিক দুর্যোগ তৈরি করে; সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা নির্দিষ্ট কর্পোরেট আর ব্যবসায়ীদের হাতে নিরবিচ্ছিন্নভাবে হস্তান্তরিত হবার সুযোগ করে দেয়।

আসলে কম বেশি সবাই এটা জানেন এবং বোঝেন,এই ধরনের সংকট বা দুর্যোগ অবশ্যই অনিয়ন্ত্রিত ও প্রাইভেটাইজেশন ব্যবস্থার সরাসরি ফলাফল। তাই মানুষ এখন পরিবর্তন চায়। ক্রমাগত শক আর আঘাত এখন আর আমাদের হতবাক বা বিস্মিত করছে না। আমরা এইসব সংকট ও বিস্ময়কর ঘটনায় চমকিত না হয়ে এর কারণগুলো আস্তে আস্তে জেনে যাচ্ছি। আধুনিক মানুষ অনেক বেশি শক প্রতিরোধী। এই সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটকে মোকাবেলা করতে হলে, আমাদের অবশ্যই লড়াইয়ের মাঠে দাঁড়াতে হবে। মানুষকে জানাতে হবে এ'পরিস্থিতির কারণ ও প্রেক্ষাপট। সঠিক ও সম্পূর্ণ তথ্যও এক ধরনের শক প্রতিরোধ তৈরি করে, তাই আমাদের তৈরি হতে হবে।   

নাওমি ক্লাইন তাঁর গ্রন্থে'র সূচনা লগ্নে বলেন, "A state of shock is not just what happens to us when something bad happens; it's what happens to us when we lose our narrative, when we lose our story, when we become disoriented. What keeps us oriented and alert and out of shock is our history. So, a period of crisis like the one we're in is a very good time to think about history, to think about continuities, to think about roots. It's a good time to place ourselves in the longer human story of struggle."

[ নাওমি ক্লাইন কানাডিয়ান বংশোদ্ভূত একজন সাংবাদিক, লেখক, সমাজকর্মী ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক। ১৯৭০ সালে তাঁর জন্ম এবং ইহুদি পরিবারে শান্তিবাদী, প্রগতিশীল পরিবেশে বেড়ে ওঠেন। ১৯৯৯ সালে তাঁর No Logo: Taking Aim at the Brand Bullies  গ্রন্থের কারনে তিনি বিশ্বব্যাপী সমাদৃত হন। ২০০২ সালে তিনি বিশ্বায়ন বিরোধী প্রবন্ধ সংকলন Fences and Windows প্রকাশ করেন। ২০০৪ সালে তিনি এবং তাঁর স্বামী এভি লুইস মিলে আর্জেন্টিনা'র কারখানা শ্রমিকদের আন্দোলনের উপর The Take নামে একটি তথ্যচিত্র নির্মাণ করেন। নাওমি তাঁর তৃতীয় গ্রন্থ ( বর্তমান আলোচিত)  The Shock Doctrine: The Rise of Disaster Capitalism  প্রকাশ করেন ২০০৭ সালে। উল্লেখ্য গ্রন্থটি সারা পৃথিবীতে অভাবনীয় সাড়া তৈরি করে এবং এ যাবত প্রায় ত্রিশটি ভাষায় অনূদিত হয়। এরপর থেকে তিনি পৃথিবীর সংকট যথা ইরাক যুদ্ধের সমালোচনা, প্যালেস্টাইনে ইসরাইলী আগ্রাসন, বিশ্বায়ন বিরোধী, পরিবেশ, শ্রমিক ও গন মানুষের মুক্তি বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে গবেষণা ও জনমত তৈরির কাজে অবদান রেখে চলেছেন। অক্যুপাই ওয়াল ষ্ট্রীট আন্দোলন থেকে শুরু করে তিনি বর্তমানে তুরস্কতে পরিবেশবাদী আন্দোলনে সমর্থন ও সম্পৃক্ত থাকেন। এমনকি বাংলাদেশে গত ২৪ এপ্রিলে ভবন ধ্বস ও হাজার হাজার গার্মেন্টস শ্রমিক নিহত হবার ঘটনায় তিনি গার্মেন্টস মালিক ও বিদেশী ক্রেতা কোম্পানিগুলোর সমালোচনা করেন সামাজিক অনলাইন মাধ্যম গুলোতে। বর্তমানে তিনি জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক একটি গবেষণা কর্মে নিয়োজিত। তাঁর ওয়েব সাইট হল – http://www.naomiklein.org

(লিখাটি পূর্বে জুম ইনের দ্বিতীয় সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছিল) 


Rafiqul Anowar Russell

রফিকুল আনোয়ার রাসেল

চিত্রনাট্যকার ও চলচ্চিত্র নির্মাতা

রফিকুল আনোয়ার রাসেল ১৯৯৮ সাল থেকে চলচ্চিত্র সংসদ চর্চায় তার সম্পৃক্ত। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় চলচ্চিত্র সংসদের প্রতিষ্ঠাতাদের অন্যতম, রাসেল ছাত্র থাকা অবস্থা থেকে বিভিন্ন ভূমিকায় চলচ্চিত্র চর্চায় সংযুক্ত। কখনো ফিচার লেখক, অভিনয়, চিত্রগ্রহণ, চিত্রনাট্য, কখনো প্রযোজনায় তিনি সংযুক্ত রেখেছেন নিজেকে। পরবর্তী সময়ে অডিও ভিশুয়াল প্রতিষ্ঠান ‘অযান্ত্রিক’ গড়ে তুলেছিলেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যের এম এ নির্মাতা রাসেলের আত্মপ্রকাশ ২০০৮ সালে, ১১ মিনিটের শর্ট ফিকশন ‘হাইজ্যাক’ পরিচালনার মধ্য দিয়ে। এরপর নিজের চলচ্চিত্র নির্মাণ প্রতিষ্ঠান এ এন ব্রাদার্স প্রোডাকশনস থেকে ২০১২ সালে তিনি তৈরি করেন আরেকটি ছোট দৈর্ঘ্যের কাহিনীচিত্র ১১ মিনিটের ‘ফান।’ ২০১৪ সালে ‘দ্য অ্যাডভাঞ্চারার’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে রফিকুল আনোয়ার রাসেল জাতীয় পর্যায়ে পরিচিতি পান। দেশ ব্যাপী নানা চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত এই স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রটি ২০১৫ সালের ‘মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ভিত্তিক প্রতিযোগিতা - শর্টফিল্ম’ বিভাগে ১ম স্থান লাভ করে। ২০১৫ সালে ইমপ্রেস টেলিফিল্ম এর সামুরাই মারুফ পরিচালিত পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘মেসিডোনা’ চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্য রচনা’র মধ্য দিয়ে পেশাদার চিত্রনাট্যকার হিসেবে কাজ শুরু করেন। এছাড়া তিনি গল্প, ফিচার, ফিল্ম রিভিউ বা চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট যেকোন বিষয়ে গবেষণা ও লেখালিখির কাজ করে থাকেন। ২০১৪ সাল থেকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন বিষয়ে খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে যোগ দিয়েছেন। তিনি বর্তমানে চট্টগ্রামে বাস করেন।