এজিথ্রোমাইসিন সেবনের পূর্বে জেনে নিন

img

এন্টিবায়োটিকের মধ্যে এজালাইড (একধরনের ম্যাক্রোলাইড) গ্রুপের এজিথ্রোমাইসিন অন্যতম। নানা ধরণের ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন যেমন, কান ও গলার ইনফেকশন, নিউমোনিয়া, ট্রাভেলার্স ডাইরিয়া, নানা ধরণের এস টি ডি(সেক্সুয়ালি ট্রান্সমিটেড ডিজিস- ক্লেমিডি, গনরিয়া ইনফেকশন) অন্ত্রের বিভিন্ন ইনফেকশন ইত্যাদি ক্ষেত্রে অন্যান্য ঔষধের পাশাপাশি এজিথ্রোমাইসিন প্রেসক্রাইব করা হয়ে থাকে। এজিথ্রোমাইসিন মুখে সেবনের জন্য ট্যাবলেট, ক্যপসুল, সাসপেনশন, চোখের ড্রপ বা মলম এবং শিরায় প্রদানের জন্য ইনজেকশন রুপে ফার্মেসিগুলোতে পাওয়া যায়। বাংলাদেশে এজিথ্রোমাইসিন ভিন্ন ভিন্ন কোম্পানী ভিন্ন ভিন্ন নামে যেমন, Avalon, AZ-250, Azalid, Azicin, Azimex, Azin, Azithrocin, Azyth, Curazith, Odazyth, Rozith, Tridosil, Zibac, Zimax, Zithrin, Zithrox ইত্যাদি নামে বিক্রি করে থাকে।

১৯৮০ সালে সর্বপ্রথম প্লিভা (Pliva) নামক ফার্মাসিউটিকাল কোম্পানীতে এজিথ্রোমাইসিন আবিষ্কার হয়। সর্বপ্রথম প্লিভা এবং ফিজার (Phizer) নামক ইউরোপের দুটি ফার্মাসিউটিকাল এই ঔষধটি বিক্রির লাইসেন্স পায়। এই দুই কোম্পানি কর্তৃক বিক্রিত এজিথ্রোমাইসিনের তৎকালীন নাম ছিল যথাক্রমে sumamed(১৯৮৮) ও Zithromax(১৯৯১)।

এজিথ্রোমাইসিন ব্যাকটেরিয়ার রাইবোজমের 50s সাবইউনিটের সাথে যুক্ত হয়ে mRNA  থেকে প্রোটিন সংশ্লেষন বন্ধ করে ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধিতে বাধা প্রদান করে রোগ প্রতিরোধ করে।

এজিথ্রোমাইসিন গ্রাম পজিটিভ এবং গ্রাম নেগেটিভ উভয়ের উপর কার্যকর। প্রাপ্ত বয়ষ্কদের ক্ষেত্রে এজিথ্রোমাইসিন প্রেসক্রাইব করা হয় সাধারণত একিউট ব্যাকটেরিয়াল সাইনুসাইটিস, একিউট ব্যাকটেরিয়াল ক্রনিক বঙ্কাইটিস, নিউমোনিয়া, ব্যাকটেরিয়া সংক্রমিত টন্সিলের প্রদাহে ফার্স্ট লাইন থেরাপির বিকল্প হিসেবে, ব্যাকটেরিয়াল কারণে ত্বকের কোন ইনফেকশন হলে, ব্যাকটেরিয়া সংক্রমিত মুত্রনালীর প্রদাহ বা সার্ভিসাইটিসের ক্ষেত্রে।

শিশুদের ক্ষেত্রে ব্যাকটেরিয়া আক্রান্ত কানের প্রদাহ(৬ বছরের উর্ধে), নিউমোনিয়া, (ছয় বছরের উর্ধে), ব্যাকটেরিয়া সংক্রমিত টন্সিলের প্রদাহ(দুই বছরের উর্ধে) এর ক্ষেত্রে এজিথ্রোমাইসিন প্রেসক্রাইব করা হয়ে থাকে।

সাধারনত এজিথ্রোমাইসিন বা যেকোন ধরনের এন্টিবায়োটিক সেবনে রোগী অল্প কিছু সময়েই সুস্থতা অনুভব করেন। সুস্থতা অনুভব করলে রোগী অনেক সময় মাঝপথেই ঔষধ খাওয়া ছেড়ে দেন, এতে রোগের জীবাণু আরো বেশী শক্তিশালী আর ভয়াবহ হয়ে ওঠে, ফলে পরবর্তী রোগ নির্ণয় বা রোগীকে সুস্থ করা ডাক্তারের পক্ষেও কঠিন হয়ে যায়। শুধু তাই নয়, একই ঔষধ দিয়ে ঐ রোগ আর ভালো হয় না এবং দায়ী শক্তিশালী জীবাণু পরবর্তী জেনারেশনেও ট্রান্সফার হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই ডাক্তারের প্রেসক্রাইব করা এজিথ্রোমাইসিনসহ যেকোন এন্টিবায়োটিক সময়মত এবং নির্ধারিত সময়কাল বা দিন পর্যন্ত খাওয়া উচিৎ। 

এজিথ্রোমাইসিন সেবনে তেমন কোন ক্ষতি এখনও পর্যবেক্ষিত হয় নি, তবে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া-স্বরূপ প্রতি শতে ৫জনে ডাইরিয়া, ৩জনে বমি বমি ভাব, ৩জনে পেটে ব্যাথা, বমি, এলার্জি, ক্লেইম করতে জানা যায়, যাকে বিশেষ কোন সমস্যা ধরা হয় না মেডিক্যালি। তবে বিশেষ কিছু রোগ বা রোগীর ক্ষেত্রে এজিথ্রোমাইসিন সেবনে সতর্কতা অবলম্বন জরুরী প্রথমত, যেসকল রোগীর পাকস্থলী বা অন্ত্রজনীত রোগ আছে। এসকল রোগীর ক্ষেত্রে এন্টিবায়োটিক সেবনে সাবধানতা অবলম্বন করা উচিৎ, বিশেষ করে যাদের কোলন প্রদাহ রয়েছে। কিছু কিছু এন্টিবায়োটিক যেমন ক্লিন্ডামাইসিন, লিঙ্কোমাইসিন, অ্যামাইনোপেনিসিলিন, এমোক্সিসিলিন, এম্পিসিলিন, সেফালোস্পোরিন, এজিথ্রোমাইসিন ইত্যাদি সেবনে কিছু কিছু রোগীর সিউডোমেম্ব্রেনাস কোলাইটিস বা কোলনের প্রদাহজনীত সমস্যা দেখা যায়। আর রোগী যদি আগে থেকেই কোলনের প্রদাহ থেকে থাকে তবে ঐসকল এন্টিবায়োটিক সেবনে সমস্যার প্রখরতা সামান্য থেকে মৃত্যুর ঝুকি পর্যন্ত গড়াতে পারে। কিছু কিছু এন্টিবায়োটিক সেবনে Clostridium difficile নামক মাইক্রোঅর্গানিজমের গ্রোথ বাড়িয়ে দেয়, যার থেকে নিঃসৃত হয় এক প্রকার টক্সিন, যাকে কোলন প্রদাহের প্রধান কারণ হিসেবে ধরা হয়। কোলন প্রদাহের প্রাথমিক লক্ষণ হচ্ছে ঘন ঘন ডাইরিয়া, মারাত্বক পেটে ব্যাথা এবং পায়খানার সাথে রক্তক্ষরণ। যদি কোন এন্টিবায়োটিক সেবনে এমন কোন সমস্যার সম্মুখীন হন তবে অতিসত্ত্বর ঐ ঔষধ সেবন বন্ধ করে ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করা জরুরী। সেক্ষেত্রে ডাক্তার স্টুল কালচার টেস্ট রেফার করতে পারেন। এই টেস্ট স্টুলে Clostridium difficile   বা তার কর্তৃক নিঃসৃত টক্সিনের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে সহায়তা করে। ডায়রিয়ার প্রকোপ বেশী হলে কোলন প্রদাহ ডায়াগনোসিস করার জন্য এন্ডোস্কপি করারও পরামর্শ দিয়ে থাকেন ডাক্তার।

দ্বিতীয়ত, যারা QT prolongation বা হৃদস্পন্দন-জনীত সমস্যায় ভুগছেন বা যাদের কিডনী জনীত সমস্যা রয়েছে তাদের এজিথ্রোমাইসিন সেবনে হৃদস্পন্দনের অস্বাভাবিকতা দেখা দিতে পারে।

তৃতীয়ত, মায়েস্থেনিয়া গ্রাভিস রোগে ভুগছেন এমন রোগীর এজিথ্রোমাইসিন সেবনে এই রোগের মানসিক লক্ষণগুলো প্রকট রুপে প্রকাশ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কেননা এজিথ্রোমাইসিন এসিটাইল কোলিন রিলিজে বাধা দেয়।

চতুর্থত, লিভারের সমস্যায় ভুগছেন যেমন লিভার প্রদাহ, জন্ডিস, লিভার ট্যিসু ডেমেজ, অকেজো লিভার ইত্যাদি ক্ষেত্রে এজিথ্রোমাইসিন গ্রহণ করা উচিৎ হবে না। আবার এজিথ্রোমাইসিন সেবনে যদি কারো জন্ডিস বা লিভারজনীত কোন সমস্যা হয়ে থাকে, তবে ডাক্তারের পরামর্শের সাথে সাথে এজিথ্রোমাইসিন খাওয়া বন্ধ করে দিতে হবে।

অন্তঃস্বত্তা বা সন্তান সম্ভাবা নারীর ক্ষেত্রে এজিথ্রোমাইসিন সেবনে কোন ক্ষতির কথা কোথাও উল্লেখ নেই বরং অন্তঃসত্তা নারীর ক্লেমিডি ইনফেকশন সারাতে এজিথ্রোমাইসিন প্রেসক্রাইব করা হয়ে থাকে।


সাধারণত এজিথ্রোমাইসিন খালি পেটে বা ভরা পেটে উভয় অবস্থায়ই খাওয়া যায়, কিন্তু অ্যালকোহল বা মদ জাতীয় পানীয় এর সাথে পান না করাই ভালো, কেননা অ্যালকোহল এবং এজিথ্রোমাইসিন উভয়ই লিভারের জন্য ক্ষতিকর। এছাড়া কিছু কিছু ঔষধ এজিথ্রোমাইসিনের কার্যকারিতায় প্রভাব ফেলে। উল্লেখ্য, যেসকল রোগী অনিয়মিত হৃদস্পন্দন বা হার্টের সমস্যায় ভুগে থাকেন তাদের ডাক্তার এমিয়োডেরোন (Amiodarone) নামক ঔষধ প্রেসক্রাইব করে থাকেন। এমিয়োডেরন সেবনকারী কোন রোগীর যদি কোন কারনে এজিথ্রোমাইসিন সেবন করতে হয় তাহলে ডাক্তারের বা ফার্মাসিস্টের সাথে যোগাযোগ করে নেয়া উচিৎ। কেননা একত্রে এমিয়োডেরন এবং এজিথ্রোমাইসিন সেবনে হৃদপিন্ডে বিরূপ প্রতিক্রিয়া ফেলতে পারে। এছাড়া রক্তে এমিয়োডেরোনের মাত্রা অস্বাভাবিক ভাবে বেড়ে গিয়ে নার্ভের ক্ষতি সাধন, লিভার ইনজুরি, দৃষ্টিশক্তি দুর্বল এবং ফুসুফুসের প্রদাহ হতে পারে। একত্রে এ দুইটি ঔষধ সেবনে রোগী মাথা ঘোরা, শ্বাস নিতে কষ্ট, হার্টবিট বেড়ে যাওয়ার মত লক্ষণ ক্লেইম করতে পারে। এক্ষেত্রে, ডাক্তার এজিথ্রোমাইসিনের পরিবর্তে অন্য কোন ঔষধ বা ডোজ এডজাস্টমেন্ট, বা মনিটোরিং করে দেখতে পারেন।

এজিথ্রমাইসিনের সাথে আর্সেনিক ট্রাইঅক্সাইড (Arsenic trioxide) বা বিডাকুইলিন (Bedaquiline), বেপ্রিডিল (Bepridil) বা ক্লোজাপিন (Clozapine) কুইনিডিন (Quinidine) বা ডাই-আইসোপিরামিড (Disopyramide) বা ডফেটিলাইড (Dofetilide) বা মেথাডোন (Methadone) বা লেভোমিথাডাইল এসিটেট (Levomethadyl acetate) বা আইবুটিলাইড (Ibutilide) বা ড্রপেরিডল(Droperidol), সোটালোল (sotalol) একত্রে সেবনেও হার্টের সমস্যা বা উপোরোক্ত সমস্যাগুলো হতে পারে।
এজিথ্রোমাইসিন এবং পিমোযাইড একত্রে সেবনে বাধা আছে, কারণ একত্রে এই ঔষধ সেবনে হৃদস্পন্দনের অস্বাভাবিকতা দেখা গেছে।
প্রোপক্সিফিন (propoxyphene),বিসাকোডাইল (bisacodyl),এমিট্রিপটাইলিন (Amitriptyline),পারফিনাজিন (Perphenazine), ক্লেরিথ্রোমাইসিন (clarithromycin) ইত্যাদি এজিথ্রোমাইসিনের সাথে সেবনে হার্টের সমস্যাগুলো দেখা দিতে পারে। তবে এসকল ঔষধের ক্ষেত্রে ক্ষতির মাত্রা উপোরক্ত ঔষধসমুহের তুলনায় কম বলা যায়।

আর্থরাইটিস রোগীদের প্রেসক্রাইব করা লেফলুনোমাইড (Leflunomide)নামক আরেকটি ঔষধ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াস্বরূপ লিভারের ক্ষতি করতে পারে। এই ঔষধটির সাথে এজিথ্রোমাইসিন সেবনে লিভারের আরো ক্ষতি সাধন হতে পারে কেননা আলাদাভাবে শুধুমাত্র এজিথ্রোমাইসিনও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াস্বরূপ লিভারের ক্ষতি করতে পারে। লেফলুনোমাইড সেবনের অনেকক্ষণ পরও তা রোগীর রক্তে উপস্থিত থাকতে পারে, তাই ঔষধটি সেবন করা বন্ধ করে দিলেও এজিথ্রোমাইসিনের সাথে ইন্টারেকশন করার সম্ভাবনা থেকে যায়। লিভার ক্ষতির কিছু কিছু লক্ষণ হল জ্বর, ত্বকে ফুসকুড়ি বা ফোলা ভাব, চুলকানি, ক্ষুধামন্দাভাব, ক্লান্তি, বমি বা বমি বমি ভাব, পেটে ব্যাথা, হলুদাভ প্রস্রাব, ত্বক বা চোখের হলুদাভাব। ঔষধ সেবনে যদি এধরনের কোন লক্ষণ প্রকাশ পায় তবে তা ডাক্তারকে জানাতে ভুলবেন না। খুব ভালো হয় যদি আপনি কি কি ঔষধ সেবন করছেন বা আগে করতেন তা ডাক্তারকে আগে থেকেই জানিয়ে দেয়া যায়।

যাদের ফ্রিকুয়েন্ট ডাইরিয়া হয়ে থাকে তাদের লোপেরামিড (Loperamide) প্রেসক্রাইব করা হয়ে থাকে। লোপেরামিড সেবণকারী কেউ যদি এজিথ্রোমাইসিন সেবন করে তবে তার হার্টের সমস্যা হতে পারে। উল্লেখ্য, লোপেরামিড মাত্রাতিরিক্ত সেবন করা উচিৎ নয়, যতদিন বলা হয়ে থাকে ঠিক তত দিনই সেবন করা উচিৎ। যাদের ডাইরিয়া বা বমির ফলে শরীর থেকে অতিরিক্ত পটাশিয়াম বা ম্যাগনেশিয়ামের ঘাটতি হয় তাদেরও ক্ষেত্রে এজথ্রোমাইসিন সেবনে সতর্ক থাকা উচিৎ। অন্যদিকে গ্যাস্ট্রিক বা অ্যাসিডিটির সমস্যায় ভুগছেন এমন কেউ ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়াই এন্টাসিড জাতীয় ঔষধ চুশে খান। এন্টাসিড ম্যাগনেসিয়াম হাইড্রোক্সাইড, অ্যালুমিনিয়াম হাইড্রোক্সাইড, বা ম্যাগনেসিয়াম কার্বোনেট এর সমন্বয়ে গঠিত। এই তিনটি উপাদান আলাদা আলাদাভাবে বা সমন্বীত ভাবে এজিথ্রোমাইসিনের কার্যকারিতা কমিয়ে দিতে সক্ষম। তাই একান্তই যদি এন্টাসিড সেবনের প্রয়োজন পরে তবে রোগী এন্টাসিড সেবনের এক ঘন্টা পূর্বে বা এন্টাসিড সেবনের দুই ঘন্টা পর এজথ্রোমাইসিন সেবন করতে পারবে।

আবার এজিথ্রোমাইসিনের সাথে অ্যামাইনোফাইলিন(এক প্রকার স্টিমুলেন্ট বা উত্তেজক) সেবনে অ্যামাইনোফাইলিনের কার্যকারিতা বৃদ্ধি পায় ফলে রোগী খুব বেশী উত্তেজিত হতে পারে, তার ঘুমের ব্যাঘাত হতে পারে, খিচুনি হতে পারে, মাথা ব্যাথা, অস্থিরভাব, হৃদস্পন্দনের অস্বাভাবিকতা দেখা দিতে পারে। এক্ষেত্রে ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করা উচিৎ। ঔষধের মাত্রার পরিবর্তনে এই দুই ঔষধ একসাথে সেবন করা যেতে পারে এবং তা অভিজ্ঞ কোন ডাক্তার বা ফার্মাসিস্ট কর্তৃক জেনে নেয়া ভালো।

আর্গোটামাইন সেবনকারী যেমন, অতিরিক্ত মাইগ্রেন এটাকে প্রেসক্রাইব করা  আর্গোটামাইন টারটারেট (Ergotamine tartrate), এবোরশন বা অপারেশনের পর রক্ত বন্ধ হতে ব্যবহৃত আর্গোটামাইন মেলিয়েট (Ergotamine Maleate), যদি কোন কারনে এজিথ্রোমাইসিন সেবন করতে হয় তবে জেনে রাখা উচিৎ যে এজিথ্রোমাইসিন রক্তে আর্গোটামাইনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়, ফলে রক্তনালী পথ ছোট হয়ে যেতে পারে এবং রক্ত প্রবাহে বাঁধা হতে পারে। যদি এমন হয় তবে গুরুত্বপূর্ণ কিছু অঙ্গে সঠিক সময়ে রক্ত পরিবহন না হওয়ার ফলে উচ্চ রক্তচাপ, হার্ট অ্যাটাক, গ্যাংগ্রিন, স্ট্রোকের মত মারাত্বক দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা থাকে।

অধিকাংশ ডাইবেটিস রোগীদের মেথোট্রেক্সেট (methotrexate যেমন, emthexate, methotrax, MTX  ইত্যাদি) নামক ঔষধ প্রেসক্রাইব করা হয়ে থাকে। মেথোট্রেক্সেট এবং এজিথ্রোমাইসিন উভয়ই লিভারের ক্ষতি করে, তাই একত্রে সেবনে সতর্কতা অবলম্বন জরুরি। যদি ঔষধ সেবনে অস্থিসন্ধির ব্যাথা বা ফোলাভাব, জ্বর, চুলকানী, ক্ষুধামন্দ, র‍্যাশ, ক্লান্তি, পেটে ব্যাথা, চোখ বা প্রস্রাবে্র হলুদ রং, ইত্যাদি পর্যবেক্ষিত হয় তবে ডাক্তার বা ফার্মাসিস্টের সাথে যোগাযোগ করা উচিৎ।

এক্ষেত্রে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য না দিলেই নয়, এজিথ্রোমাইসিন সেবনকালীন সময়ে রোদে না যাওয়াই ভালো। এজিথ্রোমাইসিন সেবনে ত্বকে সানবার্ন হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। যদি ঘরের বাইরে যেতেই হয় তবে শরীর পোশাকে ভালোভাবে ঢেকে বা এস পি এফ ৩০ মাত্রার সানস্ক্রিন লাগিয়ে বের হতে হবে বা ছাতাও রাখা যেতে পারে।

মনে রাখবেন এসকল তথ্য জানার অর্থ এই নয় যে, আপনি নিজ থেকে ঔষধ খাওয়া বন্ধ করে দিবেন বা পরিবর্তন করবেন; এতে হিতে বিপরীত হতে পারে। এই তথ্যগুলো কেবলমাত্র সতর্ক থাকার জন্য। পুরোপুরি মিলে যাবে তাও নয় ,প্রত্যেকের দৈহিক আকার, গঠণ যেমন ভিন্ন তেমন পাত্র ভেদে, বয়স ভেদে, লিঙ্গ ভেদে ঔষধের কার্যকারিতাও ভিন্ন হয়ে থাকে। তাই কোন সমস্যায় উপনীত হলে অবশ্যই তত সংশ্লিষ্ট ব্যাক্তি যেমন ডাক্তার, ফার্মাসিস্ট সাথে আলোচনা করে নিবেন।


Jahanara Akhter Josna

জাহানারা আক্তার জোছনা

Pharmacist

বাংলাদেশ ফার্মেসী কাউন্সিল কর্তৃক রেজিস্টার্ড ফার্মাসিস্ট (Reg no. A9539)। বর্তমানে ইপ্রকাশ থেরাপিউটিকসের সাব-এডিটর হিসেবে কর্মরত আছেন। ঔষধ বিষয়ে নিয়মিত কলাম লিখেন। এছাড়াও, তিনি ড্রাগ ইন্টারেকশন, ঔষধ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, ঔষধের মাত্রা ও সেবনের নিয়ম সংক্রান্ত বিষয়ে কনসালটেন্সি করেন।